দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর জন্মদিনে কোনওদিন কেক আনতে ভুলতেন না সুষমা স্বরাজ। প্রতিবছর জন্মদিনের সকালে চকোলেট কেক হাতে সুষমা হাজির হতেন লালকৃষ্ণ আডবাণীর বাড়িতে। বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মার। কন্যাসমা স্নেহভাজনকে হারানোর পর আবেগপ্রবণ হয়ে স্মৃতির রাস্তায় হাঁটলেন আডবাণী। ঝাপসা চোখের সামনে ভিড় করে আসা অনেক ঘটনাই জানালেন প্রকাশ্যে।
মাত্র ৬৭ বছরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের। তাঁর আচমকা প্রয়াণে মূহ্যমান গোটা দেশ। সুষমার মৃত্যুর পর একটি আবেগঘন টুইট করেন আডবাণী। সেখানেই জানান অনেক অজানা কথা। যখন বিজেপি পার্টির সভাপতি ছিলেন আডবাণী, সে সময় নিজেই দলে নিয়ে আসেন সুষমাকে। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। এ দিনের টুইটে বারবারই উঠে এসেছে সেই সব প্রসঙ্গ। আডবাণী লিখেছেন, এ ভাবে আচমকাই সুষমা স্বরাজের চলে যাওয়া দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বুধবার সুষমা স্বরাজের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েও আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায় আডবাণীকে। সুষমা স্বরাজের মেয়ে বাঁসুরিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি। এ দিন আডবাণীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে প্রতিভা। চোখের জল সামলাতে পারেননি তিনিও। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেই স্মৃতিচারণের সময় আডবাণী বলেন, "মনে পড়ে না এমন একটাও জন্মদিন গেছে, যে বার সুষমাজি আমার পছন্দের চকোলেট কেক আনেননি।" আডবাণী আরও বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে দলের জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন। নিজের মমতাময়ী এবং উষ্ণ ব্যবহার দিয়ে জয় করেছিলেন সকলের মন। ওঁর মৃত্যু আমার কাছে একটা অপূরণীয় ক্ষতি। সুষমাজির অনুপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারব। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।"
মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন সুষমা স্বরাজ। তাঁকে দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মারা যান তিনি।