দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ দেশদ্রোহিতা আইনের আওতায় জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তাঁর মুক্তির দাবি তুললেন মীরা নায়ার, নাওম চমস্কি- সহ ২০০ জনের বেশি সাহিত্যিক, পরিচালক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও জারি করেছেন তাঁরা।
এই দাবিপত্রে যাঁরা সই করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষ, সলমন রুশদি, অরুন্ধতী রায়, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ, সাংবাদিক পি সাইনাথ প্রমুখ।
এই বিশিষ্টজনেদের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, “সিএএ ও এনআরসির মতো আইন যেখানে সবাইকে সমান নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হয় না, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য উমর খালিদ ও অন্যান্য ব্যক্তি যাঁদের মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করে জেলে ঢোকানো হয়েছে ভারত সরকারের কাছে তাঁদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। তার সঙ্গে দিল্লির সংঘর্ষ কেন হয়েছিল, বা তাতে কাদের হাত ছিল সেই ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি দিল্লি পুলিশের কাছে, যাঁরা দেশের সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে সংঘর্ষে যুক্ত ইন্ধন যোগানোর অভিযোগে ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়া সাহসী ও তরুণ শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতা উমর খালিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সবার সমান নাগরিকত্বের দাবি তুলে উমর খালিদ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দেশের প্রতি তাঁর কর্তব্য ঠিক কী। এই পদক্ষেপ থেকে তাঁর শিক্ষারও পরিচয় পাওয়া যায়।”
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তরফে বলা হয়, ধারাবাহিক হিংসার ঘটনায় উমর খালিদ ছিলেন অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী। রাজধানীর পুলিশের আরও বক্তব্য, হিংসার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ ছিল উমর খালিদের। দু’জনে মিলে শলাপরামর্শ করেছিল, হিংসাকে আরও বাড়াতে ভূমিকা নিয়েছিল।
সে সময়ে বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলেছিল দিল্লিতে। সেখানে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ দায়ের হয় উমর খালিদের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর উমর খালিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা জেরার পর, গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। উমর খালিদের বিরুদ্ধে জমা করা চার্জশিটে ১১ লক্ষ পাতার নথি জমা করে পুলিশ।
এর পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উমরকে দিল্লির আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর পুলিশি হেফাজত দেন। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিতাভ রাওয়াত বলেন, এই মামলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ডেটা ও অন্যান্য বিষয়গুলো জানতে উমর খালিদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের প্রয়োজন আছে। এর পরে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
উমর খালিদের গ্রেফতারের ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, হিংসার অভিযোগে মুসলিমদের অন্যায় ভাবে টার্গেট করছে পুলিশ। উমর খালিদ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির শিকার হয়েছেন। এবার খালিদের পাশে দাঁড়ালেন দেশের ২০০-র বেশি বিশিষ্টজনেরা।