দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানে সমস্যা শুরু হওয়ার পরেই গত রবিবার নিজের অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে দিল্লি চলে এসেছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট। প্রথমে তিনি দাবি করেন, ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন আছে তাঁর সঙ্গে। কিন্তু পরবর্তীকালে ছবিটা খানিক পরিষ্কার হলে দেখা যায়, ১৮ জন বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে কোথায় রয়েছেন সেই বিধায়করা। তাঁদের খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশও।
শুক্রবার শোনা গিয়েছিল বিজেপি শাসিত হরিয়ানা থেকে আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটকের বেঙ্গালুরু গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তারপরে জানা যায় সেখানে তাঁরা যাননি। পাইলট শিবিরের এক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমকে ফোনে জানিয়েছেন বেঙ্গালুরু তাঁরা যাচ্ছেন না। কিন্তু তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি ওই বিধায়ক।
শুক্রবার সন্ধেবেলা থেকে খোঁজ মিলছে না পাইলট শিবিরের বিধায়কদের। হরিয়ানার মানেসরে একটি রিসর্টে ওই বিধায়কদের খোঁজে গিয়েছিল রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন্স গ্রুপ। কিন্তু বিফল হয়েই ফিরতে হয় তাদের। সেখানে কংগ্রেস বিধায়ক ভানওয়ার লাল শর্মার ভয়েস স্যাম্পল নেওয়ার জন্য গিয়েছিল পুলিশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গে মিলে অশোক গেহলট সরকারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে যুক্ত ছিলেন ওই কংগ্রেস বিধায়ক। রিসর্টে ঢোকার আগেই কিছুক্ষণের জন্য আটকে দেওয়া হয় রাজস্থান পুলিশের দলকে। তারপরে অবশ্য তাদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। ভিতরে ১৮ বিধায়কের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সূত্রের খবর, রাজস্থান পুলিশের অনুমান দিল্লিতেই কোথাও রয়েছেন ওই ১৮ বিধায়ক। তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। শিগগির খোঁজ মিলবে বলেই অনুমান তাদের।
এই রিসর্ট রাজনীতি অবশ্য এর আগেও দেখা গিয়েছে। কর্নাটকে কুমারস্বামী সরকারের পতনের আগে কংগ্রেসের কিছু বিধায়ককে এভাবেই রিসর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্ব কোনও ভাবেই যোগাযোগ করতে পারেনি। অন্যদিকে আবার এই বছরের শুরুতে মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যখন ২২ কংগ্রেস বিধায়ককে নিয়ে বেরিয়ে আসেন, তখন তাঁদের চার্টার্ড বিমানে করে বেঙ্গালুরুতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে সেখানে রিসর্টে রাখা হয়েছিল। তারপরেই মধ্যপ্রদেশে কমল নাথ সরকারের পতন হয়। সেই রিসর্ট পলিটিক্স এখানেও চলছে।
গত রবিবার থেকে শচীন পাইলট রাজস্থানের বাইরে থাকার পরে কংগ্রেসের তরফে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর ও তাঁর অনুগামী ১৮ বিধায়কের বিধায়ক পদ প্রশ্নের মুখে। এই অবস্থায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পাইলট। কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব গেহলট সরকারের উপর আস্থা রাখলেও পাইলটের জন্যও দরজা খোলা রেখেছে। কিন্তু পাইলটের দাবি, তাঁর নাম রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এই প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই তিনি সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন। এই ডামাডোলের মধ্যে এখন শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা কোথায় আছেন তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।