দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে অযোধ্য মামলার শুনানি। শুনানির শুরুতেই এই বিতর্কিত জমির দাবিদার নির্মোহী আখাড়ার তরফে জানানো হয়েছে, ১৯৩৪ সাল থেকে ওই বিতর্কিত জমিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কোনও মুসলিমকে। কারণ এই জমিতে একমাত্র আখাড়ার অধিকার রয়েছে।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে আখাড়ার আইনজীবী সুশীল জৈন বলেন, রাম জন্মস্থানের অধিকার আখাড়ার পাওয়া উচিত। কারণ অনেক আগে থেকেই সেখানকার দেখভাল করে আসছে আখাড়া। তিনি বলেন, "নির্মোহী আখাড়ার রেজিস্ট্রেশন করা আছে। আমাদের দাবি মূলত আমাদের অধিকার রক্ষার। শীর্ষ আদালতের কাছে আমরা আবেদন করছি, ওই জমি যেন আমাদের দেওয়া হয়।"
সুশীল জৈন আরও বলেন, "ওই জমির ভিতরের অংশ অর্থাৎ রাম জন্মস্থানের উপর ১০০ বছর ধরে আমাদের অধিকার রয়েছে। বাইরের অংশ অর্থাৎ, সীতা রসোই, চাবুত্রা ও ভাণ্ডার গ্রহ-এর উপরেও আমাদের অধিকার রয়েছে। এটা কোনও দিনই বিতর্কিত জমি ছিল না। এটা রাম জন্মস্থান। এর অধিকার আমাদেরই।"
চলতি বছরের শুরুতেই অযোধ্যা নিয়ে প্যানেল গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাদের বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কে সমাধানের পথ খুঁজতে। প্যানেলের তিন সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এফ এম কলিফুল্লা, প্রবীণ অ্যাডভোকেট শ্রীরাম পঞ্চু এবং আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর। আট সপ্তাহের মধ্যে প্যানেলের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্যানেল জানায়, তারা বিতর্ক সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী। তখন তার কার্যকালের মেয়াদ ১৫ অগাস্ট অবধি বাড়ানো হয়।
গত সপ্তাহে প্যানেলের সদস্যরা আদালতে জানান, তাঁরা অযোধ্যা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ‘কয়েকটি পক্ষ’ কিছুতেই সমঝোতায় আসতে রাজি নয়। তখন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বিষয়টি নিয়ে দৈনিক শুনানির ব্যবস্থা করেন।
যে বেঞ্চের সামনে অযোধ্যা নিয়ে শুনানি হচ্ছে তাতে প্রধান বিচারপতি বাদে আছেন বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এস এ নাজির। প্রধান বিচারপতি অবসর নিচ্ছেন নভেম্বরে। তার আগেই অযোধ্যা মামলায় রায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
প্যানেল এর আগে ২৫ টি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে। কিন্তু নির্মোহী আখড়া বলে, যারা বিতর্কিত জমির ওপরে দাবি জানিয়েছে, কেবল তাদের নিয়েই মধ্যস্থতা করতে হবে। আখড়া ওই জমির ওপরে দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া দাবি জানিয়েছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। তারা মধ্যস্থতায় আপত্তি করেনি। এছাড়া সকলেই আপত্তি করেছিল। এমনকী উত্তরপ্রদেশ সরকারও মধ্যস্থতা চায়নি।