দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউন চলাকালীন ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের কী অবস্থা তা জানতে কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের তরফে দেশের শীর্ষ আদালতকে জানিয়ে দেওয়া হল, রাস্তায় কোনও শ্রমিক নেই। সবার খাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। সব রাজ্যগুলিকেও এই ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় রাস্তায় কেউ নেই। প্রত্যেক শ্রমিককে কাছাকাছি শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পরেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়েন ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন আনি দিন খাইয়ের সংসারে খাবার জুটছে না। আর তাই এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজ্যে ফিরতে চান তাঁরা। কিন্তু ট্রেন-বাস সব বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ বন্ধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই স্রেফ হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ না অন্য কিছু উপায় বের করেছেন ফিরে যাওয়ার। পায়ে হেঁটে ফিরতে গিয়ে খাবারের অভাবে রাস্তাতেই একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যের সীমানায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের গণ্ডগোল হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালতে একটি পিটিশন ফাইল হয়েছিল। সেই পিটিশনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রকে একটি কমিটি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে সবথেকে ক্ষতিকারক হচ্ছে ভুয়ো খবর। সলিসিটার জেনারেল বলেন, “ভারত করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৭ জানুয়ারি থেকে এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসকে আমরা রুখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অন্যান্য অনেক দেশের থেকে আগে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু তারপরেও অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।”
এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠক করে আসল খবরটা মানুষের সামনে তুলে ধরতে। তাহলেই আর ভুয়ো খবর ছড়াবে না। এই বিষয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রকে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যারা এই খবর ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।