দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়ার চার দোষী মুকেশ সিং, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও অক্ষয় ঠাকুরের আর কোনও আবেদন বাকি নেই বলেই জানিয়ে দিল দিল্লি আদালত। নিজেদের ফাঁসি রুখতে আর কোনওভাবেই আদালতের কাছে আবেদন করতে পারবে না তারা। ফলে আগামীকাল ভোর সাড়ে ৫টাতেই হতে চলেছে তাদের ফাঁসি।
বৃহস্পতিবার দিল্লি আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণাকে সরকার পক্ষের কৌসুঁলি জানিয়ে দেন, নির্ভয়ার দুই দোষী অক্ষয় ঠাকুর ও পবন গুপ্তার দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমাভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে আদালত জানিয়েছে, প্রথমবার যখন তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল, তখনই ভালভাবে বিচার বিবেচনা করে দেখা হয়েছিল। সুতরাং দ্বিতীয়বার আবেদনের কোনও প্রশ্নই নেই। বুধবার চার দোষীর মধ্যে তিন দোষী দিল্লি আদালতে আবেদন করেছিল যাতে তাদের ফাঁসির সাজা স্থগিত করে দেওয়া হয়। কিন্তু তা খারিজ করে দেওয়া হয়।
আগামী ২০ মার্চ তিহাড় জেলে ভোর সাড়ে পাঁচটায় ফাঁসি হওয়ার কথা নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত, মুকেশ সিং এবং বিনয় শর্মার। কিন্তু তার ঠিক দু’দিন আগে ১৮ মার্চ দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে দোষীদের আইনজীবী এপি সিং নতুন পিটিশন দাখিল করেন। পবন গুপ্তর তরফে একটি কিউরেটিভ পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হয়। এবং অক্ষয় ঠাকুরের তরফে রাষ্ট্রপতির কাছে দ্বিতীয়বার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানো হয়।
কিউরেটিভ পিটিশনে পবন গুপ্ত দাবি করে ঘটনার সময় সে নাবালক ছিল। আর গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির কাছে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রাণভিক্ষার আর্জি জানায় অক্ষয় ঠাকুর। যদিও তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের কথায় এর জন্য ফাঁসি পিছনোর সম্ভাবনা নেই। প্রসঙ্গত, এর আগেও অক্ষয়ের একটি প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
গত মঙ্গলবারই আবার নতুন পিটিশন দাখিল করে নির্ভয়া কাণ্ডের আর এক দোষী মুকেশ সিং জানিয়েছিল ঘটনার দিন নাকি দিল্লিতে ছিলই না সে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির রাস্তায় প্যারামেডিক্যাল এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ছ’জন। আর ১৭ ডিসেম্বর মুকেশ সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছিল রাজস্থান থেকে। তিহাড় জেলে মুকেশের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলেও ওই পিটিশনে দাবি করেছে সে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই তিহাড় জেলে পৌঁছে গিয়েছেন পবন জল্লাদ। ডামি মহড়াও হয়ে গিয়েছে তিহাড় জেলে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল ভোর সাড়ে ৫টাতেই হবে এই ফাঁসি। তার সব আয়োজন সারা।