দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অর্থনীতি ধুঁকছে বলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ নতুন নয়। কর্মসংস্থান নিয়েও মোদী সরকার ব্যর্থ বলে দাবি বিরোধী দলগুলির। বাজারে যে সত্যিই চাকরির হাহাকার তা বোঝা যাবে চেন্নাই কর্পোরেশনের স্মার্ট গাড়ি পার্কিং জোনে গেলেই। সেখানে পার্কিংয়ের কাজের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ পাশ করাদের ছড়াছড়ি। এমন অন্তত ৫০ জন সেখানে কাজ করছেন, যাঁরা হয় ইঞ্জিনিয়ার, নয় এমবিএ উত্তীর্ণ। যে কাজ তাঁরা করছেন, তার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা দশম শ্রেণি পাশ।
স্মার্ট পার্কিং জোনের টিম লিডার হিসেবে কাজ করছেন রাজেশ নামের এক ব্যক্তি। এমবিএ পাশ করার পর একটি সংস্থায় ২১ বছর চাকরি করেছেন তিনি। কিন্তু গত বছর জুলাই মাসে তালা ঝুলে যায় তাঁর সংস্থায়। অগত্যা এই কাজেই যোগ দেন রাজেশ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “আগে যা মাইনে পেতাম, এখন তার অর্ধেকও পাই না। কী আর করব! কিছু তো একটা করতে হবে! নাহলে তো বউ-ছেলেকে নিয়ে পথে বসতে হবে!”
এস আদিত্য নামের সদ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা একযুবকও যোগ দিয়েছেন এই কাজে। তিনি যদিও বলছেন, এই কাজ করতে তাঁর ভালই লাগছে। পুরোটাই টেকনিক্যাল কাজ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মনে করেন না যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা যাঁদের কম, তাঁদের চাকরির জায়গা আপনি দখল করে রেখেছেন? তাঁর জবাব, “দশম শ্রেণি পাশ করা ছেলে-মেয়েরা এই টেকনিক্যাল কাজ করতে যা সময় নেবেন, আমরা তার থেকে অনেক দ্রুত করব। ফলে এই কথা আমার মনে হয় না।”
গত বছরই দেখা গিয়েছিল কর্ণাটকের একটি পুরসভার ঝাড়ুদার নিয়োগের জন্য এমবিএ, পিএইচডি করা ছেলেদের লাইন লেগে গিয়েছিল। বাংলাতেও দেখা গিয়েছিল, মর্গের ডোমের চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন এক গবেষক। চেন্নাইয়ের এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠে গেল দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে।