দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা সংক্রমণ সবথেকে বেশি ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে চিনকে। শুধুমাত্র মুম্বইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা উহানের থেকে বেশি। কিন্তু এই রাজ্যে এখনও কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটেনি বলে জানালেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপ।
বুধবার রাজেশ তোপ বলেন, "আমাদের রাজ্যে গোষ্ঠী সংক্রমণের কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। কারণ এই রাজ্যে আক্রান্ত প্রতিটি ব্যক্তির সংক্রমণের উৎস খুঁজে পেয়েছি আমরা। তাই একথা বলা যায়, এই রাজ্যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।"
গোষ্ঠী সংক্রমণের এই সম্ভাবনা সামনে এসেছে দিল্লিতে। গতকাল দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেন, দিল্লিতে আক্রান্তদের মধ্যে গোষ্ঠী সংক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, "দিল্লিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমরা সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাচ্ছি না। তাই বলা যায়, এখানে গোষ্ঠী সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কেন্দ্র শেষ কথা বলবে।"
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর জানিয়েছে, কোনও জায়গায় আক্রান্তের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে যদি সংক্রমণের উৎস খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে বলা যেতে পারে গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে উৎস খুঁজে না পাওয়ার মানেই তা গোষ্ঠী সংক্রমণ নয় বলেই জানিয়েছে তারা। আইসিএমআরের দাবি, অনেক সময় প্রশাসনিক গাফিলতিতে উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা অনুচিত বলে জানিয়েছে তারা।
দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি। তার প্রায় তিনগুণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে। গত মাসে প্রতিদিন গড় মৃত্যু হত ৩২। জুন মাসে গড় মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৫৩। তারপরেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাজেশ তোপ বলেন, "আমাদের রাজ্যে এখনও বেডের সমস্যা হয়নি। কারণ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই রাজ্যে মৃত্যুহার ৩.৫ শতাংশ। আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে ২০ দিনে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বেড রয়েছে। তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই।"