দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ যে জোট শরিক, কাল যে চরম শত্রু! সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এটা এখন জলভাত। নিজের দলেই বন্ধু পাওয়া যায় না তো শরিক দলে!
কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক বন্ধু সম্পর্ককে যেন তার অনেক উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি-র মৃত্যু হয়েছে গত শনিবার। এক সপ্তাহ হল। আজ পটনায় নীতীশ কুমার ঘোষণা করে দিলেন, বিহারে তাঁর প্রয়াত বন্ধুর মূর্তি বসাবেন। ২৮ ডিসেম্বর জেটলির জন্মদিন। ওই দিনই উন্মোচন হবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ ও আইনমন্ত্রীর আবক্ষ মূর্তি।
দীর্ঘদিন এনডিএ-এ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন নীতীশ কুমার। অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানায় রেলমন্ত্রকের দায়িত্বেও ছিলেন তৎকালীন সমতা পার্টির নেতা। সেই সময় থেকেই অরুণ জেটলির সঙ্গে তাঁর বন্ধু সম্পর্ক।
দিল্লির রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নীতীশ বিহারে ফিরে গেলেও, রাজধানীতে নীতীশ কুমারের বড় ভরসার জায়গা ছিলেন জেটলি। আপদে, বিপদে তাঁর কাছেই ছুটতেন নীতীশ। জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে নীতীশের বিবাদের সময়ে হোক বা রাজ্যপালের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্নে তর্কের সময়ে- জেটলির বরাবরই আইনি পরামর্শ দিতে তাঁর পাশে থেকেছেন।
২০১৪-র ভোটের আগে বিজেপি নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার পর, এনডিএ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন নীতীশ। পনেরোর বিধানসভা ভোটে বিজেপি-কে রুখতে জোট বেঁধে লড়েছিলেন লালু প্রসাদ যাদবের দলের সঙ্গে। রুখে দিয়েছিলেন বিজেপি-কে। অনেকে বলেন, তার পরেও জেটলি-নীতীশ সম্পর্ক আগের মতোই ছিল। সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই জেটলি তাঁকে ফিরিয়ে আনেন এনডিএ-তে। জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে আস্থা ভোটে বিজেপি তথা এনডিএ-এর সমর্থন নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন নীতীশ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ সবটাই ছিল জেটলির মস্তিষ্কপ্রসূত।
এর আগে দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করেছিল ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামের নাম হবে অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর হবে সেই অনুষ্ঠান। আর ২৮ ডিসেম্বর মূর্তি উন্মোচন হবে বিহারে।