দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সুবিশাল উপকূল পাহারা দিতে শক্তি আরও বাড়ছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর। ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়া বিদেশি জাহাজ ধরা থেকে চোরাপাচার রোখা, সন্ত্রাসবাদীদের চোরাগোপ্তা গতিবিধি রুখে দেওয়া, হালে চিনের নজরদারি জাহাজের ওপর নজর রাখা গুরুদায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও ২০০টি নজরদারি জাহাজ ও ১০০টি আধুনিক এয়ারক্রাফ্ট পাঠানো হবে উপকূলরক্ষী বাহিনীকে।
কোস্ট গার্ড কম্যান্ডার (ইস্টার্ন বোর্ড) ভি এস পাঠানিয়া বলেছেন, এখন উপকূলরক্ষী বাহিনীর ভাঁড়ারে রয়েছে ১৫৬টি জাহাজ ও ৬২টি এয়ারক্রাফ্ট। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও ২০০টি জাহাজ ও শতাধিক এয়ারক্রাফ্ট পৌঁছে দেওয়া হবে উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে। পাঠানিয়া বলেছেন, গত কয়েক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসবাদী হামলা রুখে দিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। প্রাকৃতির দুর্যোগ থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে। ভারতের জলসীমায় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকাগুলিও নজরে রাখে উপকূলরক্ষী বাহিনী। তাই এই সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি আরও বাড়ানো দরকার।
করোনা মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী, বলেছেন কোস্ট গার্ড কম্যান্ডার পাঠানিয়া। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশি জাহাজ মারফৎ জলপথে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস পাচার হয়। গত কয়েক বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, ২৪ কিলোগ্রাম সোনা ও মাদক বাজেয়াপ্ত করেছেন উপকূলরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান থেকে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়া জাহাজের গতিবিধি রুখেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করার দায়িত্ব রয়েছে ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের ওপরে। গত বছর থেকে প্রায় ১১ বার ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছে উপকূলের শহরগুলিতে। ৬ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকো উদ্ধার করেছেন জওয়ানরা। প্রাণ বাঁচিয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি মৎস্যজীবীর।
সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে আন্দামান সীমান্তের খুব কাছে চিনা নৌবাহিনীর জাহাজ দেখে চিন্তিত নয়াদিল্লি। ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, চিনা জাহাজগুলি সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছে। চিন আগে কখনও নিজেদের জলসীমার বাইরে যুদ্ধজাহাজ বা নজরদারি জাহাজ খুব একটা পাঠাত না। কিন্তু, ২০০৮ সালে এডেন উপসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের উপদ্রব বাড়লে চিনের নৌবাহিনীও ওই এলাকায় যাতায়াত শুরু করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্তারা বলছেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের মোকাবিলার জন্য এত বড় ব্যবস্থার দরকার নেই। আসল উদ্দেশ্য এই তল্লাটের সাগরের সঙ্গে নিজের জাহাজ ও কম্যান্ডার-ক্যাপ্টেনদের পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করা। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মাঝখান দিয়ে যে পথ তাকে বলা হয় ১০ ডিগ্রি চ্যানেল। আর গ্রেট নিকোবর দ্বীপের দক্ষিণে যে পথ, তাকে বলা হয় ৬ ডিগ্রি চ্যানেল। এই দু’টি পথ থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে। আগে চিনা যুদ্ধজাহাজ যেত ৬ ডিগ্রি চ্যানেল দিয়ে। এখন চিনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে ১০ ডিগ্রি চ্যানেল, যা চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য তাই উপকূলরক্ষী বাহিনীর সংগ্রহে আরও বেশি জাহাজ ও এয়ারক্রাফ্ট থাকা দরকার।