দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার বালাসোর জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা রবিবার এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন। ভুবনেশ্বর থেকে ১৯৬ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রথমটাই দেখে বুঝতেই পারেননি আদতে সেটি কী। বেশ কিছুক্ষণ পরে তাঁরা বুঝতে পারেন হলুদ রঙের একটি কচ্ছপের দেখা তাঁরা পেয়েছেন। সেটিকে উদ্ধার করেন তাঁরা। এই প্রজাতির কচ্ছপ বিরল বলেই জানাচ্ছেন প্রাণীবিদরা।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, বালাসোরের এক ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন ভানুমিত্র আচার্য জানিয়েছেন, এই প্রজাতির কচ্ছপ খুবই বিরল। তিনি জানান, “যে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার খোলস- সহ পুরো শরীরটা হলুদ রঙের। এই ধরনের কচ্ছপ খুবই বিরল। আমি নিজে এই ধরনের কচ্ছপ আগে দেখিনি।”
রবিবার বালাসোর জেলার সুজনপুর গ্রামের বাসিন্দারা এই কচ্ছপটিকে দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তাঁরা বন দফতরের আধিকারিকদের খবর দেন। তারপর সেই কচ্ছপটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেন।
ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের এক অফিসার সুশান্ত নন্দ টুইটারে লেখেন, এই হলুদ কচ্ছপটি সম্ভবত অ্যালবিনো প্রজাতির। এই ধরনের একটি কচ্ছপকে কয়েক বছর আগে সিন্ধ এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান। নিজের বক্তব্যের সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি ভেসেলের মধ্যে জলে একটি হলুদ কচ্ছপ সাঁতার কাটছে।
https://twitter.com/susantananda3/status/1285028394950778884?s=19
তিনি টুইটারে আরও একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে কচ্ছপটিকে আরও কাছ থেকে দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “কচ্ছপটির গোলাপি চোখ দুটি দেখুন। এটা অ্যালবিনো প্রজাতির কচ্ছপদের মধ্যেই দেখা যায়।”
https://twitter.com/susantananda3/status/1285029695587676160?s=19
এই কচ্ছপের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হওয়ার পরেই তা ভাইরাল। বেশিরভাগ নেটিজেনের দাবি এই ধরনের কচ্ছপ তাঁরা আগে দেখেননি। কেউ আবার জানিয়েছেন, টিভিতে অন্য দেশে দেখলেও ভারতে এই হলুদ কচ্ছপ তাঁরা প্রথম দেখছেন।
গত মাসে ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার দেউলি ড্যামে মৎস্যজীবীদের জালে বিরল ট্রিওনিকিডাই প্রজাতির একটি কচ্ছপ ধরা পড়েছিল। এই খবর জানার পরে বন দফতরের আধিকারিকরা গিয়ে কচ্ছপটিকে ড্যামের জলে ছেড়ে দেন। এই প্রজাতির কচ্ছপের খোলস পাতলা হয়। এই প্রজাতির কচ্ছপ সাধারণত আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় দেখতে পাওয়া যায়। বন দফতর সূত্রে খবর, এই প্রজাতির কচ্ছপের ওজন ৩০ কেজির একটু বেশি হয়। ৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এই প্রজাতির কচ্ছপ।