দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই কোন কাল থেকে বাঙালির কাছে এঁচোড়ের ডাকনাম ‘গাছপাঁঠা।’ কিন্তু সেই গাছপাঁঠার যে এমন আকাশ ছোঁয়া দাম হবে কে জানত!
বাজারে গুজব ছড়িয়েছে, মাংস থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও, গুজব তো গুজবই। ছড়িয়ে পড়েছে হুহু করে। তার ফলে বিকল্প হিসেবে এঁচোড়কেই বেছে নিচ্ছেন অনেকে। দেখা যাচ্ছে, মাংসের দাম যেমন কমছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এঁচড়ের দাম।
পরিস্থিতি কতটা জটিল?
উত্তরপ্রদেশের পল্ট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন মাংস নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাটাতে গোরক্ষপুরে মাংস মেলা করেছিল। সংস্থার এক কর্ণধার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সেই মেলায় তাঁরা ৩০টাকায় মাংসের নানান পদের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। সেখানে কয়েক হাজার কিলো মাংস উবে গিয়েছে। কিন্তু কোনওভাবেই দোকান থেকে মাংস কিনে লোকে খাচ্ছে না। শুধু চিকেন নয়। ভয় তৈরি হয়েছে মাটনেও। উত্তর ভারতে ব্যাপক হারে কমেছে পাঁঠার মাংস বিক্রি।
আর এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ মাংসের বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে এঁচোড়। একাধিক নামকরা রেস্তরাঁয় বিরিয়ানির প্লেটে এখন এঁচোড়। মাটন বা চিকেন বিরিয়ানির বদলে মেনু কার্ডে লেখা থাকছে ‘কাঁঠাল বিরিয়ানি।’
করোনাকে বিশ্বজোড়া মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু।’ ব্যাপক আতঙ্ক সারা দুনিয়া জুড়ে। চিন থেকে শুরু হওয়া প্রকোপ ছেয়ে গিয়েছে দেশের পর দেশে। আমেরিকা থেকে ব্রিটেন, ইতালি থেকে ইরান—করোনা যেন দানবের আকার নিয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যখন উদ্বেগজনক, ভারতে যখন প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, ঠিক সেই সময়ে এঁচোড় ব্যবসায়ীদের ঠোঁটে চওড়া হাসি।