দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। কিন্তু এই সংকটের মুহূর্তকে কাটিয়ে উঠেই ভাল সময় আসবে বলে ধারণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এই বিপদের মুহূর্তকে সুযোগে পরিণত করার বার্তা দিয়েছেন মোদী। বণিক সভার ৯৫ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স - এ নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে তিনি বলেন, "গোটা বিশ্ব এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমরাও সেই চ্যালেঞ্জের মুখেই দাঁড়িয়ে। সবাই একজোট হয়ে লড়ছি আমরা। ভারত এখন আত্মনির্ভর হওয়া শুরু করেছে। আমরা এই বিপদের মুহূর্তকে সুযোগে পরিণত করব। লড়াই চলছে। গোটা দেশকে নিজের পায়ে ফের দাঁড় করানো আমাদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।"
নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে প্রথম ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে প্রথম ধাপ এগিয়েছি। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার কাজ শুরু হয় পরিবারের মধ্যে থেকেই। পরিবারই আমাদের শেখায় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উপায়। দেশকে আত্মনির্ভর করার উপায় হল বিদেশের প্রতি কম নির্ভরতা। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছি আমরা।"
ভারতকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে পূর্ব ভারত, বিশেষ করে কলকাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা মোদীর। তিনি বলেন, "আগে প্রচলিত ছিল, বাংলা আজ যা ভাবে দেশ আগামী কাল তা ভাবে। তাই কলকাতাকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলার শিল্পপতিদের এগিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি বাংলার শিল্পপতিদের ক্ষমতা রয়েছে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।"
কেন্দ্রীয় সরকার করোনা পরবর্তী অর্থনীতির উন্নতিতে যে প্রকল্পের ঘোষণা করেছে তার সুফল বাংলাও পাবে বলে জানিয়েছেন মোদী। বিশেষ করে বাংলার পাট শিল্পের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। মোদী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে পাট শিল্পের সম্ভাবনা সবথেকে ভাল। বর্তমানে প্লাস্টিকের বদলে দেশজুড়ে পাট চালু করলে তা পরিবেশের উন্নতিতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে দেশের অর্থনীতির উন্নতিও হবে। তার জন্য অবশ্য চেম্বার অফ কমার্সকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।"
এদিন বণিক সভার এই সাধারণ সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব ভারতের সব বড় শিল্পপতিরা। প্রধানমন্ত্রী যে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন সেই কাজে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।