দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নাগাল্যান্ডের সবথেকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড (এনএসসিএন)-এর শাখা এনএসসিএন-আইএম। শুক্রবার কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে নাগাল্যান্ডের জন্য পৃথক পতাকা ও সংবিধানের দাবি করেছে খাপলাংয়ের এই দল। এই শর্ত না মানলে শান্তি চুক্তি হওয়া সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে এনএসসিএন-আইএম।
শুক্রবার এনএসসিএন-আইএম গোষ্ঠীর একটি জয়েন্ট কাউন্সিল বৈঠক হয়। সেখানে ‘নাগা সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অধিকার’ এবং ‘ইন্দো-নাগা রাজনৈতিক আলোচনা’ কত দূর এগিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের কাছে হেব্রনে কেন্দ্রীয় হেডকোয়ার্টারে হয় এই বৈঠক। নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল আর এন রবি জানিয়েছেন, এই গোষ্ঠীর বিভিন্ন দলের পৃথক মনোভাবের জন্য শান্তি আলোচনা এক জায়গাতেই আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিল এনএসসিএন-আইএম।
বৈঠকের পরে এনএসসিএন-আইএম দলের তরফে একটি সাংবাদিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এনএসসিএন-আইএম পৃথক নাগা জাতীয় পতাকা ও ইয়েঝাবু অর্থাৎ সংবিধান দাবি করছে। ইন্দো-নাগা রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ও নাগা চুক্তির জন্য এই দাবি মেনে নিতেই হবে।” শুধু তাই নয়, বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩ অগস্টের ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রের সঙ্গে এনএসসিএন-আইএম একটি ফাইনাল চুক্তির দাবি রাখছে।
এনএসসিএন-আইএমের শীর্ষ নেতৃত্ব এমনকি তাদের জেনারেল সেক্রেটারি থুইঙ্গালেং মুইভা এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিকদের সঙ্গে কথা এগনোর জন্য এসেছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে এই নাগা গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য কথাবার্তা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দলের তরফে এই বিবৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
গত মাসে এনএসসিএন-আইএম গোষ্ঠীর তরফে দাবি করা হয় ২০১৫ সালে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় তাদের দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ কেন্দ্র জানিয়েছে, নাগারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও থাকতে পারবে। নাগা মানুষদের পৃথক স্বাধীনতার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলেই দাবি করে তারা।
যদিও এর মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে নাগাল্যান্ডের আর একটি সশস্ত্র সংগঠন নাগা ন্যাশনাল পলিটিক্যাল গ্রুপস বা এনএনপিজিএস জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে সই করতে রাজি। তার জন্য তাদের পৃথক পতাকা বা সংবিধানের প্রয়োজন নেই। এই পরিস্থিতিতে নিজের রাজ্যেই চাপে পড়ে গিয়েছে এনএসসিএন-আইএম। তাই কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে এই দাবি করছে তারা।