দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে উত্তরপ্রদেশের কানপুর নিয়ে যাওয়ার পথে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে কানপুরের ত্রাস বিকাশ দুবের। তারপর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে সাজানো বলে অভিযোগ করেছেন বিকাশকে ধরতে গিয়ে নিহত পুলিশের পরিবারের লোকেরাও। এই অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনকে সমর্থন করলেন বিকাশের বাবা। বললেন, ছেলে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিকাশের বাবা রাম কুমার দুবে বলেন, “উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন আমার ছেলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে ঠিক কাজ করেছে।” আট পুলিশকর্মীকে হত্যা করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছিল বিকাশ, এমনটাই মনে করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে রাম কুমার বলেন, “যদি বিকাশ আমাদের কথা শুনত তাহলে ওর জীবনটা এভাবে শেষ হত না। বিকাশ আমাদের কোনও দিন কোনও ভাবে সাহায্য করেনি। বরং ওর জন্য আমাদের আদি বাড়িও মাটিতে মিশে গিয়েছে। ও আট পুলিশকর্মীকে খুন করেছে, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন একদম ঠিক কাজ করেছে। যদি তারা এই কাজ না করত, আগামী দিনে আবার কেউ বিকাশের মতো হয়ে উঠত।”
যোগী সরকারের কাছে একটিই আবেদন রয়েছে এই বৃদ্ধর। তা হলে নিজের আদি বাড়িতে ঢোকার অনুমতি। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব হল প্রত্যেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। পুলিশ সেটাই করে থাকে। বিকাশ পুলিশের উপর হামলা করেছে। এটাকে ক্ষমা করা যায় না। আমি ওর শেষকৃত্যেও যাব না। আমার একটাই আবেদন, আমাদের আদি বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক আমাকে।”
শুক্রবার রাতেই অবশ্য কানপুরের ভৈরব ঘাটে শেষকৃত্য হয় বিকাশের। তার স্ত্রী, ছোট ছেলে ও শ্যালক ছাড়া পরিবারের আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
শুক্রবার সকালে উজ্জয়িনী থেকে বিকাশকে কানপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনটি গাড়ির কনভয়ের মধ্যে যে গাড়িতে বিকাশ ছিল সেটিই কানপুরের কাছে হাইওয়ের উপর উল্টে যায়। আচমকা গাড়ি উল্টে যাওয়ায় আহত হন বিকাশ এবং সেই গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা। তবে চোট সামান্যই ছিল।
পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই আহত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেয় বিকাশ। তারপর তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও হার মানতে চায়নি বিকাশ দুবে। উল্টে পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে খানিকটা বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয় তাদের। তাতেই গুলি লাগে বিকাশের। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বিকাশ দুবেকে। ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিকাশের মৃত্যুর পরে অবশ্য রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ইচ্ছে করেই এই এনকাউন্টার ঘটানো হয়েছে। পুরোটাই সাজানো। গতকালই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিল বিকাশ। অভিযোগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। তাঁর দাবি, গাড়ি না ওল্টালে সরকারটাই পালটে যেত। পুরো এনকাউন্টারের ঘটনা পরিকল্পিত। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসকদলের অনেক নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিকাশের। সেসব ধামাচাপা দিতেই এই এনকাউন্টার সাজানো হয়েছে। বিজেপির তরফে আবার দাবি করা হয়েছে, যে পদক্ষেপ আগে পুলিশ নেয়নি, সেটাই বিজেপি সরকারের সময় নেওয়া হচ্ছে। কোনও দুষ্কৃতীদের রেয়াত করা হচ্ছে না। আর সেই ঘটনা নিয়েও রাজনীতি করছে বিরোধীরা।