দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর তিন তালাক প্রথাকে নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরও তালাক দেওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। কোভিড পর্বে আরও একটি ঘটনা সামনে এল। যা নিয়ে নড়েচড়ে বসল মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট জানালেন, অভিযোগকারী মহিলা বিচার পাবেনই।
শুক্রবার ভোপালের কোহেফিজা থানায় সিঙ্গাপুরনিবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। তাঁর বাপের বাড়ি ভোপালে হলেও তিনি আপাতত বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলের কর্মী। সম্প্রতি তিনি বাবা-মায়ের কাছে ভোপালে এসেছেন। থানায় অভিযোগ জানিয়ে ওই মহিলা বলেছেন, বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে তাঁকে তাঁর স্বামী তিন তালাক দিয়েছেন।
এই অভিযোগ কানে যাওয়ার পরই একের পর এক টুইট করেন শিবরাজ সিং চৌহান। সেখানে তিনি বলেন, “বর্বোরচিত এই বন্দোবস্ত বিলোপের জন্য অনেক লড়াই করতে হয়েছে। মহিলাদের উপর আর অবিচার হতে দেওয়া যাবে না। এর বিচার হবেই হবে।”
ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কোহেফিজা থানা এলাকার বাসিন্দা ফৈয়জ আলম আনসারির। এরপর ২০১৪ নাগাদ বাবা-মাকে নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে যান ফৈয়জ। দুই সন্তানও রয়েছে এই দম্পতির। মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, ফৈয়জ এখন সিঙ্গাপুর ও ভারত—দুই দেশেরই নাগরিক। কোহেফিজা থানা এলাকায় তাঁদের বাড়িও রয়েছে।
কোহেফিজা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অনিল বাজপেয়ী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, পণের ২৫ লক্ষ টাকার জন্য এই মহিলার উপর তাঁর স্বামী বিয়ের পর থেকেই অকথ্য অত্যাচার চালাতেন বলে তিনি অভিযোগপত্রে লিখেছেন। তাঁর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযোগকারিণী লিখেছেন, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরু চলে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরই সিঙ্গাপুরে চলে যান স্বামী ও ও শ্বশুরবাড়ির পরিবার।
গোটা ঘটনায় কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এখন দেখার, সিঙ্গাপুরে থাকা ফৈয়জ আনসারির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় ভোপাল পুলিশ।