দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মোতাবেক উত্তরপ্রদেশ সরকার মসজিদের জন্যও জমি চিহ্নিত করছে। অযোধ্যার মন্দির এলাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে জায়গা পাকা করে ফেলেছিল যোগী সরকার। ধোঁয়াশা ছিল এই জায়গা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড মেনে নেবে কিনা। সোমবার বোর্ডের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই জায়গাতেই মসজিদ নির্মাণ করবে। সঙ্গে গ্রন্থাগার ও হাসপাতালও তৈরি হবে পাঁচ একর জায়গার মধ্যে।
সুপ্রিম কোর্ট গত ৯ নম্ভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়ে বলে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে ৫ একর জমি মসজিদ তৈরির জন্য দিতে হবে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান জুফার ফারুকি বলেন, ‘‘আজকের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার যে জমি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে, তা গ্রহণ করা হবে। তার সঙ্গে একটি ইন্দো-ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, একটি হাসপাতাল এবং একটি লাইব্রেরিও তৈরি হবে ওই জমিতে।’’
অযোধ্যার ওই এলাকায় টানা ১৮ কিলোমিটার জুড়ে শুধু মন্দির আর মন্দির। এই গোটা জায়গাটিকে ’১৪ কোশি পরিক্রমা’ বলা হয়। আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দলের মতো একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি ছিল, হিন্দু সংস্কৃতি এলাকার বাইরে মসজিদ করতে হবে। কোনও ভাবেই ওই এলাকায় তা করা যাবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেকারণেই এত দূরে মসজিদের জায়গা চিহ্নিত করেছে যোগী সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, অযোধ্যায় মসজিদ কোনও ফাঁকা জমির উপর নির্মিত হয়নি। পুরাতত্ত্ব বিভাগ তাদের যে রিপোর্টে জানিয়েছিল, তাতে উল্লেখ ছিল ওই বিতর্কিত জমিতে তার আগে একটি কাঠামো ছিল। যা সম্ভবত দ্বাদশ শতকে নির্মিত হয়েছিল। পুরাতত্ত্ব বিভাগ বলে, ওই কাঠামো ইসলামিক ধাঁচের নয়। তবে তা যে মন্দিরই ছিল তাও বলা হয়নি রিপোর্টে।
’৯২ সালে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পর নমাজ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু তার মানে এই নয় যে মসজিদের দাবি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল একাধিক ইসলামিক সংগঠন। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেও রিভিউ পিটিশন দাখিল হয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।