দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার কোপে ক্রমেই আতঙ্ক বাড়ছে ভারতে। আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। প্রথম থেকেই কোভিড-১৯ এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মহারাষ্ট্রে। আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যার নিরিখে বাকি সব রাজ্যকেই ছাপিইয়ে গিয়েছে মারাঠা প্রদেশ।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের হটস্পট তালিকায় বাণিজ্য নগরীর মুম্বইয়ের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। মুম্বইয়ের অন্যান্য করোনা হটস্পটগুলির মধ্যে ওরলিতে সংক্রমণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তবে সেখানে ধীরে ধীরে সুস্থ হছেন করোনা আক্রান্তরা। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন বেশ কয়েকজন। আপাতত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাঁদের। তবেই সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে উঠবেন তাঁরা।
করোনার প্রভাবে তছনছ হওয়া মহারাষ্ট্র তথা মুম্বইকে এখন আশার আলো দেখাচ্ছে ওরলি। এমনটাই মনে করছেন ওরলির বিধায়ক এবং মহারাষ্ট্রের পরিবেশ মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে। সম্প্রতি টুইট করে তিনি বলেছেন, “ওরলির কিছু বাসিন্দার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। ওঁরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। যে ভাবে ওঁরা যুদ্ধ জয় করেছেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে গোটা মারাঠা প্রদেশ কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে এই কঠিন লড়াইয়ে জয়ী হবে।“
https://twitter.com/AUThackeray/status/1250476754281480193
ভারতে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মুম্বইতেই। মারাঠা প্রদেশের এই শহরকে ইতিমধ্যেই করোনা এপিসেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জি-সাউথ ওয়ার্ডের ওরলি, প্রভাদেবী এবং লোয়ার প্যারেলে গত মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছে ৫২ জন। নতুন ৫২টি কোভিড-১৯ কেসের খোঁজ পাওয়ায় জি-সাউথ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৩৬০, যা মুম্বই শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তবে এই তিন জায়গা ছাড়াও জি-সাউথ ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে কোলিওয়াড়া, জনতা কওনি, জিজামাতা নগর এবং বিডিডি চল। বৃহন্মুম্বই পুরসভা ইতিমধ্যেই ৪০০টি কন্টেইনমেন্ট জোন খুঁজে বের করেছে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কেবল মুম্বইতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
প্রসঙ্গত, ভারতে এখন করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১২৩৮০। মৃত্যু হয়েছে ৪১৪ জনের। মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৯১৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮৭ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯৫ জন।