দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস ও লকডাউনের ফলে গত দু’মাসে ১৫ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে ভারতের ধনীতম ব্যক্তি রিলায়েন্স গ্রুপের কর্ণধার মুকেশ আম্বানির। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ লক্ষ কোটি টাকায়। এর আগে বিশ্বে ধনীদের তালিকায় ৯ নম্বরে ছিলেন আম্বানি। এই লোকসানের ফলে আট ধাপ পিছিয়ে ১৭ নম্বরে চলে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনিই বিশ্বের সেরা ১০০ ধনীদের তালিকায় একমাত্র ভারতীয়।
লোকসান হয়েছে ভারতের আরও তিন শিল্পপতি গৌতম আদানি, শিব নাদার ও উদয় কোটাকের। আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানির লোকসানের পরিমাণ ৫ লক্ষ কোটি টাকা। এইচসিএল টেকনোলজিসের মালিক শিব নাদারের লোকসান হয়েছে ৪ লক্ষ কোটি টাকার। কোটাক গ্রুপের মালিক গৌতম কোটাকের ৩ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। এই লোকসানের ফলে তাঁরা তিনজনেই বিশ্বের ধনীদের তালিকায় প্রথম ১০০ জনের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, এই দু’মাসে ভারতের শেয়ার মার্কেটে ২৫ শতাংশ লোকসান হয়েছে। হুরুন রিপোর্ট ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনাস রহমান জানিয়েছেন, “ভারতের বড় কোম্পানিগুলির শেয়ার মূল্য ২৬ শতাংশ কমেছে। সেইসঙ্গে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যও ৫.২ শতাংশ কমেছে। মুকেশ আম্বানির জন্য এই সময়টা একটা ঝড়ের মতো। বিশ্বে শিল্পপতিদের মধ্যে লোকসানের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়।”
এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফরাসি ফ্যাশন জায়ান্ট এলভিএমএইচ-এর চিফ এক্সিকিউটিভ বার্নার্ড আর্নল্টের। তাঁর লোকসানের পরিমাণ ২৩ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তি ৫৯ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের মালিক ওয়ারেন বাফেটও এই সময়ে ১৫ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান করেছেন। তাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৬৩ লক্ষ কোটি টাকা।
মুকেশ আম্বানি ছাড়া বিশ্বের শিল্পপতিদের প্রথম দশের তালিকায় থাকা কার্লোস স্লিম, বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ, ল্যারি পেজ, সার্জে ব্রিন ও মাইকেল ব্লুমবার্গও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের সেরা ধনী হলেন অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজস। এই দু’মাসে ৯ শতাংশ কমলেও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিল গেটস। ১৪ শতাংশ লোকসান হয়ে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৬৯ লক্ষ কোটি টাকা।