দেশের ১০ বড় শহরেই অর্ধেকের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ৭১ শতাংশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে দেশে রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন তিনটে জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোনের মধ্যে আবার বেশি আক্রান্তের এলাকাগুলিকে হটস্পট হিসে
শেষ আপডেট: 2 May 2020 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে দেশে রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন তিনটে জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোনের মধ্যে আবার বেশি আক্রান্তের এলাকাগুলিকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হটস্পটের সংখ্যা কমলেও বড় শহরগুলি ভাবাচ্ছে কেন্দ্রকে। পরিসংখ্যান বলছে দেশের ১০ বড় শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধেক। এই ১০ বড় শহরে মৃতের সংখ্যা ভারতের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া নতুন তালিকায় করোনা হটস্পটের সংখ্যা ১৭০ থেকে কমিয়ে ১৩০ করা হয়েছে। হটস্পটের সংখ্যা কমলেও নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে মেট্রোপলিটন শহরগুলি। এই শহরগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ভারতের মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সিংহভাগই এই বড় শহরগুলিতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ১০টি বড় শহরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০০১২। যা দেশের মোট আক্রান্তের ( ৩৭৩৩৬ ) ৫৩.৫৭ শতাংশ। ভারতের মোট মৃত্যুর ( ১২১৮ ) ৭০.৬৩ শতাংশ অর্থাৎ ৮৬০ জন মারা গিয়েছেন এই ১০ শহরে।
এই ১০টি বড় শহর হল মুম্বই, আহমেদাবাদ, ইন্দোর, পুনে, দিল্লি, থানে, চেন্নাই, জয়পুর, সুরাট ও হায়দরাবাদ। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই শহরগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা। ২ মে পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা হিসেব করা রয়েছে এই পরিসংখ্যানে।
| শহরের নাম |
আক্রান্তের সংখ্যা |
| মুম্বই |
৭২৫৩ |
| আহমেদাবাদ |
৩২২৬ |
| ইন্দোর |
১৯৮৬ |
| পুনে |
১৫০৮ |
| দিল্লি |
১৩০৬ |
| থানে |
১১৪৩ |
| চেন্নাই |
১০০৬ |
| জয়পুর |
৯৯৬ |
| সুরাট |
৮১৪ |
| হায়দরাবাদ |
৭৭৪ |
দেশের বড় শহরগুলিতে আক্রান্তের হিসেবে সবথেকে খারাপ অবস্থা মুম্বইয়ের। এই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ। মহারাষ্ট্রের ৭১.১৩ শতাংশ আক্রান্ত এই শহরেই। প্রশাসনকে যা চিন্তায় ফেলেছে সেটা হল এই শহরে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার। গত ১২ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।
আহমেদাবাদের অবস্থাও খুব একটা ভাল নয়। গুজরাতের আক্রান্ত ও মৃতের তিন-চতুর্থাংশ এই শহরেই হয়েছে। আহমেদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ভারতে সবথেকে বেশি। মৃত্যুর হারও ভারতের জাতীয় হারের থেকে বেশি।
মধ্যপ্রদেশে কোভিড আক্রান্ত হয়ে যতজনের মৃত্যু হয়েছে তার অর্ধেক ইন্দোরে। যদিও অন্য শহরগুলির থেকে এখানে বৃদ্ধির হার বর্তমানে অনেকটাই কম।
দিল্লির ১১টি জেলাকেই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে করোনায় মৃত্যুর হার কমানোতে সবথেকে ভাল কাজ করেছে দিল্লি সরকার। দেশে মৃত্যুর হার সবথেকে কম এই শহরে।
এই ১০টি মেট্রোপলিটন শহর ছাড়াও কলকাতা, যোধপুর ও ভোপালেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০-র বেশি।
এভাবে বড় শহরগুলিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিন্তায় কেন্দ্র। কারণ বড় শহরে বিভিন্ন এলাকার মানুষ থাকেন। এই সব শহরে জনঘনত্বও অনেক বেশি। আবার রাজ্যের অর্থনীতির কেন্দ্র এই শহরগুলি। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে অর্থনৈতিক কাজ শুরু করাও সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এই বড় শহরগুলি করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কাছে।