দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহেই দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বিশেষ দল গড়েছিল। নিজামুদ্দিনের তবলিঘি জামাতে কারা হাজির ছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করতে মোবাইলের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা শুরু করেছিল দিল্লি পুলিশ। তার ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকেও দেওয়া হয়েছিল তথ্য। সেই সূত্র ধরে মহারাষ্ট্র সরকার ১০৬১ জনকে চিহ্নিত করল, যাঁরা নিজামুদ্দিনের জমায়েতে হাজির ছিলেন।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ জানিয়েছেন, "আমরা ফোন কলের তথ্য ধরে দেখেছি যাঁরা নিজামুদ্দিনে গেছিলেন এবং তাঁরা যাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সেটা মিলিয়ে সংখ্যাটা ১৮৮৫। এর মধ্যে ১৮২৬ জনকে চিহ্নিত করা গেছে। বাকি ৫৯ জনকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।"
অনিল দেশমুখ আরও বলেছেন, "চিহ্নিত হওয়া ১৮২৬ জনের মধ্যে ১০৬১ জন সশরীরে নিজামুদ্দিনে পৌঁছেছিলেন। বাকিরা তাঁদের সংস্পর্শে আসেন।" এদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ১৬ জনের মধ্যে করোনা উপসর্গ থাকায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে আইসলেশন ওয়ার্ডে।
মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত সেই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১৭৭ জন। সরকারের দাবি আনুমানিক দু'হাজার লোক নিজামুদ্দিনে গেছিলেন মহারাষ্ট্র থেকে। বেশ কিছু নিজামুদ্দিন ফেরত জামাত সদস্য ইতিমধ্যেই চিকিৎসাধীন। বাকিদের খুঁজে পেতে ফোন কলেই ভরসা করছে মহারাষ্ট্র সরকার।
বুধবার সকালে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার পেরিয়ে গেছে। যার মধ্যে প্রায় দেড় হাজার নিজামুদ্দিন ফেরত জামাত সদস্য। সংক্রমণে নিজামুদ্দিনের জমায়েত কতটা ভূমিকা নিয়েছে দু’দিন আগেই সেই তথ্য দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল।
তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে মোট আক্রান্তের ৩০ শতাংশের নিজামুদ্দিন যোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন ভারতে ৪.১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। নিজামুদ্দিনের ঘটনা না ঘটলে তা হত ৭.৪ দিনে। অর্থাৎ অর্ধেক দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে সংক্রামিতের সংখ্যা। গতকাল কেন্দ্রের তরফে পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয় একজন করোনা আক্রান্তর থেকে ৪০৬ জনের শরীরে তা সংক্রামিত হতে পারে।