দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা দু’ঘণ্টা ধরে চরম নাটক চলল ভরা কোর্ট রুমে। ঠিক যেমনটা সিনেমায় দেখা যায়। আইনজীবী এক ব্যক্তিকে একের পর এক প্রশ্নবাণ ছুড়ে চলেছেন। আর সব জবাবেই ওই ব্যক্তি বলে চলেছেন, “আমার তো কিছু মনে পড়ছে না।“
তবে বাস্তবের এই কোর্ট রুম ড্রামাতে কাঠগড়ায় ছিলেন ভারতের এক নামিদামি ব্যক্তি। বিভিন্ন প্রথম সারির কাগজের সম্পাদক ছাড়াও তিনি ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি এম জে আকবর। ২০১৮ সালে #মিটু ঝড়ের ঝাপটা থেকে রক্ষা পাননি এই বর্ষীয়ান সম্পাদকও। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন সাংবাদিক প্রিয়া রমানি। তবে কেবল প্রিয়া নন, আরও জনা আট-দশেক মহিলা অভিযোগ জানিয়েছিলেন আকবরের বিরুদ্ধে। তাঁদের একটাই কথা। নানা ভাবে সুযোগ নিয়ে অছিলায় তাঁদের যৌন হেনস্থা করেছেন আকবর।
প্রায় ২০ বছর পর এম জে আকবরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন প্রিয়া রমানি। যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেন আকবর। বলেন, “#মিটু একটা ট্রেন্ড”। উল্টে প্রিয়ার বিরুদ্ধেই ঠুকেছিলেন মানহানির মামলা। তবে ব্যক্তিগত ১৬ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়ে যান প্রিয়া রমানি।
শনিবার প্রিয়ার বিরুদ্ধে আকবরের করা সেই মানহানির মামলারই শুনানি ছিল। অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট (ACMM)-এর কাছে যাওয়ার আগেই আকবর সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ প্রিয়া এনেছেন তা অত্যন্ত ‘বিকৃত’ এবং ‘মানহানিকর’। এরপর প্রিয়ার তরফ থেকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট রেবেকা জন সওয়াল করেন এম জে আকবরকে। আর তখনই শুরু হয় নাটক। রেবেকার করা প্রায় সব প্রশ্নের উত্তরেই আকবর সটান বলে দেন, “আমার মনে পড়ছে না।“