পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য-আশ্রয় নিশ্চিত করুন, রাজ্যগুলিকে বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভিন্ন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা আতঙ্কিত। লকডাউনের মধ্যেও ঘরে ফিরতে মরিয়া তাঁরা। এনিয়ে যখন সারা দেশেই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে তখন সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিক, কৃষক, অসংগঠিত শ্রমিক-- সকলের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সুনিশ্চিত করতে হবে। কোভিড -১৯ সংক্রমণ এড়াতে দেশজুড়ে যে লকডাউন চলছে তাতে যেন পরিযায়ী শ্রমিকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় সেজন্য পদক্ষেপ করতে হবে।
গত দু'দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল নেমেছে। জামাকাপড়ের বোজকা নিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রমিকরা, বাড়ি ফিরবেন বলে। গতকাল রাতেই কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া একটি ভিডিও বার্তায় দাবি জানান, সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। নাহলে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ জায়গায় যাবে।
ওই ভিডিও বার্তায় প্রিয়ঙ্কা আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের তরফে একটি হাইওয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে চেষ্টায় করা হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। রাহুল গান্ধীও একই দাবি করেন। তারপরই এদিন সমস্ত রাজ্যগুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠাল গৃহমন্ত্রীর দফতর।
গত দু'দিনে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও দুধের খালি ট্যাঙ্কারে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আটক করা হয়েছে কয়েকশো শ্রমিককে। কোথাও আবার দেখা গিয়েছে লকডাউনের মধ্যে ঘরে ফিরতে চেয়ে ১২০০ কিলোমিটার ভ্যান চালিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উদ্বেগজনক জায়গায় যাচ্ছিল তখনই পদক্ষেপ করার বার্তা দিল কেন্দ্র।
বাংলাতেও ছবিটা ভিন্ন নয়। বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকরা বিভিন্ন উপায়ে বাড়ি ফিরতে চেয়ে রাজ্য ছাড়ছেন। দু'দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের ১৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, সেই সেই রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকরা যাতে আশ্রয়, খাবার এবং ওষুধ পান তা যেন নিশ্চিত করা হয়। গতকাল নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, ১৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি এও বলেন, বাংলায় যেসব ভিনরাজ্যের শ্রমিক আছেন, তাঁদের প্রতি সমস্ত কর্তব্য পালন করছে রাজ্য সরকার।
বাস্তব হল, একে আর্থিক সঙ্কট তার উপর দূরে থাকা পরিবারের প্রতি দুশ্চিন্তা থেকেই অন্য রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকরা ভাইরাস সতর্কতা অমান্য করেই ঘরমুখী হচ্ছেন। আর সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যগুলিকে বার্তা দিল কেন্দ্র।