দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ টাকার টিকিট কাটার পয়সা ছিল না মধ্যপ্রদেশের এক আদিবাসী যুবকের। তাই তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আর সেই কারণে হাসপাতালের বাইরে বসেই বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে যক্ষ্মারোগী ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, পাশের অশোকনগর জেলার এক আদিবাসী যুবক সুনীল ধাকড়ের যক্ষ্মা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা করানোর মতো টাকা তাঁর কাছে ছিল না। খুবই গরিব পরিবারের হওয়ায় চিকিৎসা করাতে না পেরে রোগ ক্রমেই বাড়তে থাকে সুনীলের। অবশেষে গুনা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে তিনি যান। কিন্তু টিকিট কাটার টাকা না থাকায় তাঁকে হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
সুনীলের স্ত্রী কোলের বাচ্চা নিয়ে কোনওরকমে স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু টিকিটের ৫ টাকা তাঁদের কাছে ছিল না। যুবতী জানান, তাঁরা হাসপাতালের কর্মীদের কাছে অনেক অনুরোধ করেন তাঁর স্বামীকে ঢুকতে দেওয়ার জন্য। পরে না হয় কোনওভাবে টিকিটের দাম তিনি দিয়ে দেবেন বলেও জানান। কিন্তু কর্মীরা তাঁদের ঢুকতে দেননি। ফলে সারারাত তাঁরা হাসপাতালের বাইরেই অপেক্ষা করেন। পরের দিন সকালে মৃত্যু হয় সুনীলের।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের করা একটি টুইটে। শিবরাজ সিং চৌহান সরকারকে কটাক্ষ করে কমল নাথ লেখেন, “আপনারা বিধায়ক কেনা-বেচা করতে থাকুন আর তাঁদের নিলামে তুলুন। আর অন্যদিকে সারারাত একটা ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে এক যুবতী হাসপাতালের বাইরে তাঁর স্বামীর চিকিৎসার জন্য বসে থাকুক।”
মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সমালোচনা। তার জবাবে গুনার ওই হাসপাতালের সিভিল সার্জেন ডাক্তার এস কে শ্রীবাস্তব বলেন, সুনীল ধাকড় নেশা করে হাসপাতালের বাইরে সবসময় বসে থাকত। তাঁর চিকিৎসায় গাফিলতির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ওই ডাক্তার।
সমালোচনা শুরু হতেই অবশ্য প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গুনা জেলার জেলাশাসক কুমার পুরুষোত্তম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রভুরাম চৌধরী টুইট করে জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি কালেক্টর সোনম জৈনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।