দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মাস পরেই কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন। গান্ধী পরিবারের মধ্যেই ফের কেউ সভাপতি হবেন, নাকি বাইরের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেই নিয়েই জল্পনা চলছে। তার মাঝে রাহুল গান্ধীকেই ফের কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার আর্জি জানাল দিল্লি কংগ্রেস। রবিবার সন্ধ্যায় সর্বসম্মতোভাবে এই রেজোলিউশন নিয়েছে তারা।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, সামনেই বেশ কিছু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেগুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পরে জুন মাসে দলের সাংগঠনিক নির্বাচন হবে। তাই তার আগে দিল্লি কংগ্রেসের এই রেজোলিউশনের পরে একই পদক্ষেপ আরও অনেক প্রদেশ কংগ্রেস নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, মুকুল ওয়াসনিক ও পি চিদম্বরমের মতো নেতারা দ্রুত সাংগঠনিক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই এর আগে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে তথাকথিত গান্ধী পরিবারের আস্থাভাজন অশোক গেহলট, অমরিন্দর সিং, এ কে অ্যান্টনি, তারিক আনোয়াররা দাবি করেন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনের পরেই এই প্রক্রিয়া করা হোক।
উনিশের লোকসভায় কংগ্রেসের শোচনীয় ফলের পরে সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন রাহুল গান্ধী। তার পর থেকে তিনি দায়িত্ব নিতে চান না। তাঁকে বহুবার আবেদন করা হলেও কান দেননি তিনি। রাহুল বারবার বলেছেন, গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। যদিও তারপরেও রাহুলের মা সনিয়া গান্ধীকেই নিতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর দায়িত্ব। যদিও প্রথম দিনই সনিয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন, বেশিদিন এই দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না তিনি।
যতই সনিয়া ও রাহুল এই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান, তাঁদের বাদ দিয়ে কংগ্রেসে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হয় না। এমনকি যে ২৩ জন কংগ্রেস নেতা নেতৃত্বের উপর অনাস্থা জানিয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছিলেন, তাঁদেরই দলে সংখ্যালঘু করে দেওয়া হয়েছে। তাই এবার ফের রাহুলকেই কংগ্রেসের দায়িত্ব নিতে হবে কিনা সেটা অবশ্য সময় বলবে। যদিও এখন থেকেই রাহুলের সমর্থনে দাবি তোলা শুরু করল বিভিন্ন রাজ্য কমিটিগুলি।