দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের মতো কোভিডে মৃত্যুর হিসেবে গরমিল মহারাষ্ট্রেও। এতদিন মারাঠা রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুর যে পরিসংখ্যাণ দেখানো হচ্ছিল বাস্তবে মৃত্যু তার থেকেও অনেক বেশি। উদ্ধব ঠাকরে সরকারের সংশোধিত পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে, মহারাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে এখন কোভিডে মোট মৃতের সংখ্যা এক লাখ আট হাজারে পৌঁছে গেছে।
সম্প্রতি বিহারে কোভিডে মৃত্যুর সংশোধিত নথি পেশ করেছে নীতিশ কুমার সরকার। পাটনা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা পুনর্গণনা করা হয়। তাতে ধরা পড়ে বাস্তবে মৃত্যু হয়েছে ৭২% বেশি। গত তিন মাসের হিসেবে কোভিডে মৃত্যুর যে হিসেব পাওয়া গেছে তা চমকে দেওয়ার মতোই। এর রেশ পড়েছে জাতীয় পরিসংখ্যাণেও। মহারাষ্ট্রেও একইভাবে গত ১২ দিন ধরে সংক্রমণজনিত কারণে মৃতদের সংখ্যা পুনর্গণনা করে দেখা হয়। তাতে ধরা পড়ে রাজ্যে মৃত্যু লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
জুন মাসের ১ তারিখ থেকে রাজ্যের যে জেলাগুলিতে কোভিড সংক্রমণের হার বেশি সেখানেই নতুন করে মৃত্যুর হিসেব করা হয়। দেখা গেছে পুনর্গণনার পরে পুণে, ঠাণে, নাগপুর, নাসিক, ঔরঙ্গাবাদ, আহমেদনগর ও যবতমলে কোভিডে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে পুণেতে অতিরিক্ত ১৩৬৮ জন, ঠাণেতে ১১৬৭ জন ও নাগপুরে ৫০৩ জনের নাম তালিকায় যোগ করতে হয়েছে।
বস্তুত, গত দুদিন ধরে মহারাষ্ট্রে একদিনে করোনায় মৃত্যু রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। এর কারণ হল রাজ্যে একদিনে যতজনের মৃত্যু হচ্ছে তার সঙ্গে আগের হিসেব যোগ করা হচ্ছে। রবিবারই কোভিডে মৃত্যুর যে হিসেব দেখানো হয়েছে তার মধ্যে রাজ্যে একদিনে মৃত্যু ৪৮৩ জনের, যার মধ্যে ২৮৪ জন বিগত ৪৮ ঘণ্টায় এবং গত সপ্তাহে মৃত ১৯৯ জনের নামও তালিকায় যোগ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, গত তিনদিনে মহারাষ্ট্রে সাড়ে ৬ হাজার মৃত্যুর হিসেব দেখানো হয়েছে, যার বেশিরভাগই এপ্রিল ও মে মাসের তালিকা যোগ করে হয়েছে।
রাজ্যে কোভিড ডেথ অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ডক্টর অবিনাশ সুপে বলেছেন, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহের হিসেব মিলিয়ে দেখা গেছে সংক্রমণে মৃত্যু অনেক বেশি। বিশেষত পুণে, ঠাণে, নাগপুরের মতো জেলাগুলি থেকেই এই বাড়তি হিসেব পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলিতে প্রতিদিনের আপডেট মেলানো হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে যে হারে কোভিড সংক্রমণ বেড়েছিল আর হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল, তাতেই হিসেবে কিছু গরমিল হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। চেয়ারম্যানের বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রেই বাড়িতে চিকিৎসায় থাকা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, সেসব হিসেব তালিকায় ওঠেনি। এখন প্রতি জেলার কনটেইনমেন্ট জ়োনগুলিতে মৃতের সংখ্যা পুনর্গণনা করে সেই হিসেব মেলানো হচ্ছে।
রাজ্যে এখনও কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার ৫.৮ শতাংশ। কোলাপুর, রায়গড়, রত্নগিরি, পুণে, সাতারা, সিন্ধুদূর্গ, সাঙ্গলি, ঠাণে ও ঔরঙ্গাবাদে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।