দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। তার মধ্যেই ২৫ মে থেকে অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রবিবার মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। এ বার মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানালেন, এখনই মহারাষ্ট্রে বিমান পরিষেবা চালু করা যাবে না। এমনকি ৩১ মে-র পরেও লকডাউন বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “আমি অসামরিক বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বুঝতে পারছি বিমান পরিষেবা চালু করার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু আমাদের তৈরি হতে আরও সময় লাগবে। বর্তমানে শুধুমাত্র বিশেষ বিমান চলবে এই রাজ্যে।”
আগামী ১৫ দিন মহারাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ঠাকরে। তিনি বলেন, “আগামী ১৫ দিনে অনেক বেশি যাতায়াত দেখা যাবে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়বে। তাই সব কিছু ধীরে ধীরে শুরু হবে। আমরা এখনই লকডাউন তুলছি না। আমরা এও বলতে পারছি না, ৩১ মে-র পরে লকডাউন উঠে যাবে। বর্ষাকালে আমাদের আরও বেশি নজর রাখতে হবে।” ঠাকরের এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, ৩১ মে-র পরে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
উদ্ধব ঠাকরে এও জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রে পর্যায় ধরে ধরে লকডাউন উঠবে। তিনি বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে এই লকডাউন তুলব। কারণ অর্থনীতিও চালু করতে হবে, সেইসঙ্গে ভাইরাসকেও থামাতে হবে। আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা আমরা পরে করব।”
কেন্দ্রের তরফে এই বিমান পরিষেবা চালু করার ঘোষণা করার পর থেকেই এর বিরোধিতা করছে মহারাষ্ট্র। রাজ্য অবশ্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না। তবে বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের পর যাত্রীদের বিমান থেকে বেরতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। আর যদি তা হয়, তাহলে বিমানে করে কেউ মহারাষ্ট্রের কোনও বিমানবন্দরে নামতে পারবেন না। ঠিক সেভাবেই কেউ বিমান ধরতেও পারবেন না। ফলে এমনিতেই পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
শুধু মহারাষ্ট্র নয়, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুও এই সময়ে বিমান পরিষেবা চালু করার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, এই রাজ্য আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে বিমান চলাচল শুরু হলে সমস্যা হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের তরফে কেন্দ্রের কাছে ৩০ মে পর্যন্ত বাংলায় বিমান চলাচল বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছে।