দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে শপথ নিতে চলেছেন মহারাষ্ট্রের জয়ী ২৮৮ বিধায়ক। আজ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে শপথবাক্য পাঠ করবেন জয়ী বিধায়করা। তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার কালিদাস কোলাম্বকর। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে এই অনুষ্ঠান। বিধানসভার ফল ঘোষণার প্রায় এক মাস পরে শপথ নিচ্ছেন বিধায়করা।
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি আজ সকালে বিধানসভার এই বিশেষ অধিবেশন ডাকেন। সকাল ৮টার আগেই হোটেল থেকে বাসে করে বিধানসভায় আসেন কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা বিধায়করা। বিধানসভায় তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। তিনি সবাইকে আপ্যায়ন করেন। অজিত পাওয়ারের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন সুপ্রিয়া। তারপরেই বিধানসভার মধ্যে ঢুকে যান সবাই। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
বিধানসভার ফল ঘোষণার পরেই মহারাষ্ট্রে শুরু হয় এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির খেলা। কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গড়ার জন্য শুরু হয় বিজেপি, কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনার মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া। বিজেপির এককালের জোটসঙ্গী শিবসেনা হাত মেলায় এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে। একপ্রকার ঠিক হয়ে যায় মহারাষ্ট্রের নতুন মখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবসেনা-প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।
ইতিমধ্যেই ২৩ নভেম্বর ভোররাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন এনসিপির অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্রবাসী ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন এনসিপি থেকে কিছু বিধায়ক নিয়ে গিয়ে বিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছেন মারাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার। সেদিন ভোরেই মহারাষ্ট্রের উপর থেকে রাষ্ট্রপতি শাসনও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১২ নভেম্বর থেকে জারি হয়েছিল এই রাষ্ট্রপতি শাসন।
ফড়নবীশ শপথ নিলেও কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা দাবি করে বিজেপির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। নিজেদের বিধায়কদের হোটেলে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখে এই তিন দল। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে যাওয়া বিধায়কদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁরা ফিরেও আসেন। অবশেষে মঙ্গলবার উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অজিত পাওয়ার। তার কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। তারপরেই জানা যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন শিবসেনা-প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তার আগেই অবশ্য শপথগ্রহণ হয়ে গেল বিধায়কদের।