উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতেই ২৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় ক্লিনচিট অজিত পাওয়ারকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ক’দিন আগেই মহারাষ্ট্রের ভোট প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দুর্নীতি ইস্যুতে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে শোলের সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, “চাক্কি পিসিং পিসিং পিসিং!”
মধ্যরাতের মহারাষ্ট্র নাটকের পর সেই অজিত পাওয়া
শেষ আপডেট: 25 November 2019 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ক’দিন আগেই মহারাষ্ট্রের ভোট প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দুর্নীতি ইস্যুতে অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে শোলের সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, “চাক্কি পিসিং পিসিং পিসিং!”
মধ্যরাতের মহারাষ্ট্র নাটকের পর সেই অজিত পাওয়ারই এখন ফড়নবিশের ডেপুটি। আর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২৭ হাজার কোটি টাকার সেচ দুর্নীতি মামলায় ক্লিনচিট পেয়ে গেলেন শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার। সোমবার দুপুরে জানা গেল দুর্নীতি দমন ব্যুরো, ক্লিনচিট দিয়ে দিয়েছে দলীয় পদ হারানো এই এনসিপি নেতাকে। নটি ফাইল 'ক্লোজড' করে দিয়েছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো।
কাকতালীয়? এসব দেখে অনেকেই বলছেন, এটাই বিজেপির আসল খেলা। ওদের সঙ্গে যাওয়া মানেই দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মীকি হয়ে যাওয়া।
তখন মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি সরকার। সেই সরকারের জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক ছিল মারাঠা স্ট্রং ম্যানের ভাইপোর হাতে। ২০১২ সালে অবসর নেওয়া সেচ দফতরের এক ইঞ্জিনিয়র অভিযোগ তোলেন, নিজের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন অজিত পাওয়ার। বিদর্ভ সেচ উন্নয়ন পর্ষদকে ব্যবহার করে ১৯৯৯-২০০৯ এই ১০ বছরে একাধিক কোম্পানিকে বেআইনি ভাবে বরাত পাইয়ে দিয়েছেন অজিত।
অভিযোগ ওঠার পর তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল মারাঠা মুলুকে। এমনকি জাতীয় রাজনীতিও আন্দোলিত হয়েছিল এই বিরাট অঙ্কের দুর্নীতি ইস্যুতে। মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অজিত পাওয়ারকে। কিন্তু ২০১২ সালে পৃথ্বীরাজ চৌহানের কংগ্রেস সরকার মহারাষ্ট্র বিধানসভায় শ্বেতপত্র প্রকাশ করে অজিতকে ক্লিনচিট দিয়ে দেয়। পাল্টা অভিযোগ তোলে আম আদমি পার্টি। ফের সরগরম হয় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। ২০১৪ সালে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার আসার পর সেচ দুর্নীতি মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। তাতেই এদিন ক্লিন চিট দিয়ে দেওয়া হল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীকে।
শুধু দেবেন্দ্র ফড়নবিশ নয়। এনসিপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে অজিতের দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। মহারাষ্ট্রের প্রান্তে প্রান্তে জনসভা করে বলেছিলেন, আপনারা কি চান আর ওই রকম দুর্নীতিগ্রস্ত কেউ মন্ত্রী হোক। কিন্তু রাজনীতির সাপলুডোয় সেই অজিতকেই বিজেপি তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই সরকার বৈধ না অবৈধ তা জানা যাবে মঙ্গলবার দুপুরে। কিন্তু তার আগেই দুর্নীতির অভিযোগের কাদা ধুয়ে গেল অজিতে গা থেকে।