দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের হারে শীর্ষেই ছিল মহারাষ্ট্র। তবে সারা দেশে যখন কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে, তখন সংক্রমণের কার্ভ নামতে শুরু করে মারাঠা মুলুকেও। কিন্তু গত কয়েকদিনে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি ফের বেসামাল হয়ে গেছে বলে দাবি বৃহন্মুম্বই পুরসভার। ভাইরাসের সংক্রমণ ফের আগ্রাসী হয়ে দেখা দিচ্ছে রাজ্যের কয়েকটি জেলায়। চড়চড় করে বাড়ছে সংক্রমণের কার্ভ। লোকাল ট্রেনগুলি থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহন্মুম্বই পুরসভার অ্যাডিশনাল কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, সারা দেশের তুলনায় সংক্রমণের হার অনেকটাই বেড়েছে মহারাষ্ট্রে। গত ৪২ দিনে করোনা সংক্রমণ ১০-১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারাভি বস্তি যেখানে কোভিডের চিহ্নই প্রায় মুছে গিয়েছিল, নতুন করে সেখানে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব বলছে, রবিবার চারা হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। গতকাল সোমবার নতুন সংক্রমণ ছিল চার হাজারের বেশি, যা রীতিমতো অ্যালার্মিং। রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সূত্রের খবর, কোভিড টেস্টও তলানিতে এসে ঠেকেছে। গতকাল চার লাখেরও কম করোনা পরীক্ষা হয়েছে। গত ছ‘ মাসে যা সবচেয়ে কম।
ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মুম্বইতেও। কোভিড ডাবলিং টাইম (যতদিনে সংক্রমণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়) কমছে। আগে মুম্বইতে সংক্রমণ দ্বিগুণ হওয়ার সময় ছিল ৬০০ দিন, এখন যা ৪০০ দিনে এসে ঠেকেছে। জি নর্থ ওয়ার্ডের এলাকাগুলিতে সংক্রমণের হার কমে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনে ফের তা বেড়েছে। এই জি নর্থ ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে ধারাভি, দাদার ও মহিম।
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, ১ এপ্রিল প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ধারাভিতে। তারপর থেকে হু হু করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বস্তিতেই। এখনও অবধি ৩ হাজার ৭৮৮ জনের করোনা ধরা পড়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। বাকিরাও সেরে ওঠার পথে। সংক্রমণের হারও কমে গিয়েছিল ধারাভিতে। কিন্তু গত কয়েকদিনে ফের নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সপ্তাহে সংক্রমণের হার বেড়েছে ০.১২%।