দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যসভায় ভোট দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশ বিজেপির বর্ষীয়ান এক বিধায়ক। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই জানা গেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই খবর পাওয়ার পরেই তাঁর সঙ্গে ভোট দিতে যাওয়া অন্য বিধায়কদের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। হাসপাতালে লাইন পড়েছে নমুনা পরীক্ষার।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোট দেওয়ার পরেই দুপুরে শরীরটা খারাপ লাগে ওই বিধায়কের। তাঁর স্ত্রীর জোড়াজুড়িতে সঙ্গে সঙ্গে তিনি নমুনা পরীক্ষার জন্য যান। রাতের দিকে তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এলে জানা যায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।
একথা জানাজানি হতেই শুক্রবার ওই বিধায়কের সঙ্গে ভোট দিতে যাওয়া অন্য বিধায়কদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। শনিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের তিন বিজেপি বিধায়ক যশপাল সিং সিসোদিয়া, দিলীপ মাকওয়ানা ও দেবীলাল ধাকড়কে দেখা যায় ভোপালের জেপি হাসপাতালে লাইন দিয়েছেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে যশপাল সিসোদিয়া বলেন, "আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পেরেছি আমাদের এক বিধায়ক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আমি, দিলীপ মাকওয়ানা ও দেবীলাল ধাকড় এসেছি নমুনা পরীক্ষা করাতে। আমাদের কোনও উপসর্গ নেই। তাই সুরক্ষার খাতিরে নমুনা পরীক্ষা করে নিচ্ছি আমরা।" দু'দিন আগে ওই আক্রান্ত নেতার সঙ্গে ডিনার সেরেছিলেন দেবীলাল ধাকড়।
মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার মুখ্যসচিব এ পি সিং জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সব রকমের বন্দোবস্ত করা হয়ে ছিল। সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। তাই সহজেই বোঝা যাবে কারা ওই বিধায়কের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তিনি বলেন, "রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় বিধানসভার প্রতিটি কর্মী সেফটি গিয়ার পরেছিলেন। প্রতি ১৫ - ২০ মিনিট অন্তর স্যানিটাইজ করা হয়েছে। তাই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। কিন্তু আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি কারা ওই বিধায়কের সংস্পর্শে এসেছিলেন।"
এই নিয়ে মধ্যপ্রদেশে দুই বিধায়ক করোনা আক্রান্ত হলেন। এর আগে কংগ্রেসের এক বিধায়ক আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি পিপিই কিট পরেই ভোট দিতে এসেছিলেন।
মধ্যপ্রদেশের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে জিতেছে বিজেপি। একটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং ভোটে জিতে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বিজেপির দুই প্রার্থী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও সুমের সিং সোলাঙ্কিও রাজ্যসভায় গিয়েছেন।