কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পাক সেনার গুলি চালানো দ্বিগুণ বেড়েছে, উল্লেখ রিপোর্টে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্ত বরাবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক সেনার গুলি চালানোর ঘটনা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে, এমনটাই জানাল কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল মোট ১৬২৯। এবছর ইতিমধ্যেই ত
শেষ আপডেট: 28 December 2019 03:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্ত বরাবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক সেনার গুলি চালানোর ঘটনা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে, এমনটাই জানাল কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল মোট ১৬২৯। এবছর ইতিমধ্যেই তা ৩২০০। এখনও ডিসেম্বর মাসের হিসেব আসেনি। সেখানে ২০১৭ সালে মাত্র ৮৬০ বার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
কেন্দ্রের তরফে প্রকাশ করা এই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বালাকোট হামলা ও জম্মু-কাশ্মীরের উপরের থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থকেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বেড়েছে। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানত আখনুর, গুরেজ, কেরান, উরি ও পুঞ্চ সেক্টরে প্রায় প্রতিদিনই গুলি চালাচ্ছে পাক সেনা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা এইসব জায়গায় অনেকটাই বেশি।
সেনার এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম ( ব্যাট )-এর গতিবিধি অনেক বেড়ে গেছে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। গুলি চালানোর ঘটনা বেড়েছে। আর এসবই বেড়েছে ৫ অগস্টের পর থেকে। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় বায়ুসেনার বালাকোট হামলার পর থেকে এই ধরনের ঘটনা বেড়েছে।” সেনা সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে কাশ্মীরে প্রায় ৩০০ ও জম্মুতে অন্তত ২০ জন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর তরফে আরও জানানো হয়েছে, গোটা বছর ধরে দু’দেশের মধ্যে গুলির বিনিময় চলতেই থাকে। কারণ ভারত-পাকিস্তান দু’দেশই চায় তাদের অধিকৃত এলাকা যাতে কোনওভাবেই হাতছাড়া না হয়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ২১৫ বার গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। মার্চে সংখ্যাটা ২৬৭। অগস্ট মাস থেকে সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। অগস্টে ৩০৭, সেপ্টেম্বরে ২৯২, অক্টোবর মাসে ৩৫১ ও নভেম্বরে ৩০২ বার গুলি চালিয়েছে পাক সেনা। ডিসেম্বরের হিসেব এখনও আসেনি। তবে সংখ্যাটা একই রকম থাকবে বলে জানানো হয়েছে সেনার তরফে।
সাধারণত, শীতকালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা অনেক কম দেখা যায়। কারণ বরফ পড়ায় সীমান্ত লাগোয়া উঁচু জায়গাগুলো থেকে নেমে আসে দু’দেশের সেনা। কিন্তু এবার শীত পড়ে গেলেও গুলি চালানোর ঘটনা কমেনি। এমনকি পাক সেনার তরফে সীমান্তের এপারে থাকা স্কুলগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে বলে খবর। সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১২০টি স্কুল থেকে বাচ্চাদের নিরাপদে বের করে এনেছে ভারতীয় সেনা।