দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে সোমবার থেকে শুরু হওয়া নাটক চরমে পৌঁছেছে। ২২ জন বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেস ছেড়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। ফলে সেখানে কমলনাথের সরকার পড়ে যাওয়ার মুখে। যদিও কংগ্রেসের দাবি, সরকার টিকিয়ে রাখবে তারা। মধ্যপ্রদেশের মতো ঘটনা এবার মহারাষ্ট্রে দেখা যেতে পারে বলে দাবি করলেন বিজেপির জোটসঙ্গী রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অঠওয়াল।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে অঠওয়াল বলেন, “মহারাষ্ট্রের বর্তমান জোট সরকারের উপরে শিবসেনার অনেক বিধায়ক সন্তুষ্ট নন। তাঁরা ক্রমাগত এই ব্যাপারে উদ্ধব ঠাকরের উপর চাপ দিচ্ছেন। তাই আমার মনে হচ্ছে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক ভূমিকম্প হতে পারে। এই লাগাতার চাপে উদ্ধব ঠাকরে কংগ্রেস ও এনসিপি জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। তাহলেই এই জোট সরকার ক্ষমতা হারাবে। ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি জোটের তরফে অবশ্য কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, এই ধরনের কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন মারাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পাওয়ার। যদিও জোট শরিকদের নিয়ে বুধবার তিনি বৈঠকে বসছেন বলেই খবর। কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন পোড়খাওয়া শরদ পাওয়ার।
অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে সোমবার থেকে নাটক শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে সনিয়া গান্ধীর কাছে টুইট করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি এমন পথে যাত্রা করেছি, তা এক বছর আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল।” পরে তিনি লেখেন, “শুরু থেকে আমার উদ্দেশ্য একটাই। তা হল জনগণকে সেবা করে। আমি এই দলে থেকে জনগণ ও দেশের সেবা করতে পারছিলাম না।” কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য অনুগামী ২২ বিধায়কও। তাঁদের মধ্যে কমলনাথ মন্ত্রিসভার ৬ মন্ত্রীও রয়েছেন।
জ্যোতিরাদিত্য এই চিঠি পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মধ্যে কংগ্রেস তাঁকে ‘বহিষ্কার’ করে। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘দলবিরোধী’ কাজের অভিযোগে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শিগগির বিজেপিতে যোগ দেবেন জ্যোতিরাদিত্য, এমনটাই ঘবর। অন্যদিকে সরকার বাঁচাতে মরিয়া কংগ্রেস। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার মহারাষ্টের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়ে গেল জল্পনা।