দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার একদিনের বিধানসভার অধিবেশন ছিল ত্রিপুরায়। শাসক-বিরোধী তর্জায় সরগরম হল অধিবেশন। বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের নেতৃত্বে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন বামফ্রন্ট বিধায়করা। শুধু ওয়াকআউট নয়, বিধানসভা ছেড়ে একেবারে রাস্তায় নেমে পড়েন বামেরা।
ত্রিপুরা বিধানসভা, নব মহাকরণ এবং নতুন রাজভবন একদম গায়ে গায়ে। তিনটি জায়গায় প্রবেশের জন্য এয়ার পোর্ট রোডের উপর একটিই মূল ফটক রয়েছে। সেই গেট থেকে বিধানসভার দূরত্ব অন্তত এক কিলোমিটার। এদিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে এক কিলোমিটার মিছিল করে মূল ফটকের সামনে চলে আসেন বাম বিধায়করা। তারপর সেখানে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন।
বামেদের বক্তব্য, বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। বিধানসভাতেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বামেরা। বাম বিধায়করা বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রধান হাসপাতাল জিবিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। আর সেসব নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলেই দাবিয়ে দিচ্ছে সরকার।
বিজেপির অবশ্য পাল্টা বক্তব্য, বিধানসভার অধিবেশনে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে সিপিএম। অধিবেশনে সুষ্ঠু আলোচনা না করে রাস্তায় গিয়ে নাটক করছেন মানিক সরকাররা।
সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা। পরিসংখ্যান দিয়ে এক সরকারি আধিকারিক বলেন, রাজ্যে সাড়ে তিনশোর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এর থেকেই বোঝা যায় তাঁরা কী পরিশ্রম করছেন।
গেরুয়া শিবিরের আরও বক্তব্য, ২৫ বছর শাসন করে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক কাঠামোটাই ভেঙে দিয়েছিল সিপিএম। অন্ধকারে তলিয়ে গেছিলেন জনজাতির মানুষজন। আর আজ যখন নতুন ত্রিপুরা গড়ার কাজ চলছে তখন সিপিএম মেকি গণতন্ত্রের বুলি আওড়াচ্ছে।