দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তপ্ত অসমের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হল সেনাবাহিনীকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গুয়াহাটির ইউনিফাইড কমান্ডারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওদালগুড়ি , শোণিতপুর , ডিব্রুগড় , ডিমহাস-সহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপারদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অসমের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আর নেই গোটা পরিস্থিতি। তাই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হোক সেনাবাহিনীকেই।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র উত্তর-পূর্ব। বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে অসম, ত্রিপুরায়। বিরোধীদের তীব্র আপত্তির মধ্যে বুধবার সংসদের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। গতকাল লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। তারপরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে। বিক্ষিপ্তভাবে হিংসাত্মক ঘটনার খবর সামনে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ। গুয়াহাটিতে জারি হয়েছে কার্ফু। বহু জায়গায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। দুই রাজ্যেই নেমেছে আধাসেনা।
জানা গিয়েছে, গুয়াহাটির গণেশগুড়িতে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের গাড়িতে হামলা হয়েছে আজ। ইট, পাথর দিয়ে ডিজিপির কনভয়ে হামলা করেছেন আন্দোলনকারীদের। অন্যদিকে তিনসুকিয়ায় ১২ ঘন্টার জন্যে জারি হচ্ছে কার্ফু। আজ সন্ধ্যা ৫টা থেকে আগামীকাল সকাল ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে কার্ফু।
অসমের কামপুরে এদিন সকাল থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। দুপুরের দিকে একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়েও চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। অন্যদিকে রুক্মিণী গ্রামে একটি সেতুর উপর সেনার কনভয়কে দু’দিক থেকে অবরুদ্ধ করেছে একদল প্রতিবাদী। আটকে গিয়েছে সেনার কনভয় ।
বুধবার রাত থেকেই গুয়াহাটির রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন প্রায় দশ হাজার মানুষ। হাত কেটে পোস্টার লিখে স্লোগান তুলেছেন ছাত্রছাত্রীরা। রাজধানী দিসপুরের সচিবালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ফেলেন প্রতিবাদীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বঙ্গাইগাঁও ও ডিব্রুগড়ে দু’কলাম সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তা ছাড়া এ ছাড়া জোরহাট ও তিনসুকিয়ায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গুয়াহাটি এবং ডিব্রুগড়ে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। যে কোনও ধরনের জমায়েত, মিটিং, মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।