দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হিংসার বলি হয়েছেন গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা। শেষবারের মতো চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানালেন পরিবারের সদস্যরা। শেষকৃত্যে ভিড় করেছিলেন প্রতিবেশীরাও। গানস্যালুট দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছেন অঙ্কিতকে। চারপাশ থেকে তখন উঠছিল 'ভারত মাতা কি জয়', 'বন্দেমাতরম', 'দেশের শহিদের জয় হোক'-এর মতো স্লোগান।
বুধবার চাঁদবাগ এলাকায় গোয়েন্দা অফিসারের বাড়ির কাছের একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়েছিল অঙ্কিত শর্মার দেহ। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র শর্মা। পরে তাহিরের বিরুদ্ধে ছেলেকে খুনের অভিযোগে এফআইআর-ও দায়ের করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, মঙ্গলবার বাড়ি ফেরার সময় অঙ্কিতকে ঘিরে ধরে উন্মত্ত জনতা। তারপরেই বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। এরপর গুলি করে খুন করা হয়েছে অঙ্কিতকে।
২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা নাগাদ বাইকে চেপে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন অঙ্কিত। তাঁর বাবা রবীন্দ্র জানান, কিছু জিনিসপত্র কিনে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে বলেছিল। এরপর থেকেই ছেলের কোনও খোঁজ মিলছিল না। সন্ধের দিকে কাছাকাছি খাজুরি খাস থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন তিনি। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে বাড়ির কাছেই একটি ড্রেন থেকে অঙ্কিতের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। রবীন্দ্র শর্মা নিজেও গোয়েন্দা অফিসার। বলেছেন, ছেলের মৃতদেহের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। সারা শরীর কালো হয়ে গিয়েছিল। চামড়া ফেটে বেরিয়ে এসেছিল দলাদলা মাংস।
https://twitter.com/i/status/1233078788344303616
নৃশংসতার নমুনা দেখে হতবাক দিল্লি পুলিশের দুঁদে পুলিশকর্তারাও। চাঁদবাগ এলাকার ড্রেন থেকে অঙ্কিতের রক্তাক্ত, থেঁতলানো দেহটা যখন উদ্ধার হয়, সারা শরীরের একটা অংশও বাদ ছিল না যেখানে ধারালো অস্ত্রের দাগ নেই। ছেঁড়াফাটা চামড়া, রক্তে শুকিয়ে কালশিটে হয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও বলছে, সারা শরীরেই অন্তত ৪০০ বার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছিল। বেরিয়ে এসেছিল অন্ত্র। তারপরেও কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল। টানা দু’ঘণ্টা ধরে চলেছিল এই নিষ্ঠুর হত্যালীলা। এরপর দলা পাকানো শরীরটা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল নর্দমায়।
শেষবার অঙ্কিতকে কাল্লু নামে একটি ছেলের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, বলেছেন অঙ্কিতের বাবা। সেই ছেলেটির খোঁজ করতেই জানা যায় একটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে চাঁদবাগের একটি ড্রেনের মধ্যে। রবীন্দ্র শর্মা বলেছেন, “খবর পেয়েই ছুটে যাই সেখানে। প্রথমে ভাল বোঝা যাচ্ছিল না। ড্রেনের মধ্য়ে উপুড় হয়ে পড়েছিল একটা দেহ। পরনে শুধু অন্তর্বাস। মুখটা দেখতেই হৃদস্পন্দন থেমে যায়। সারা শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল। গলা কাটা, রক্তাক্ত ওই দেহটা ছিল আমারই ছেলের।”
বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রও এদিন টুইট করে বলেন, “ খবর পেয়েছি দুই থেকে চার ঘণ্টা ধরে শতাধিকবার কোপানো হয়েছিল গোয়েন্দা অফিসারকে। ছক কষেই এই খুন করে তাহির হুসেনের লোকজনেরা।” তাঁর আরও দাবি, মসজিদের ছাদ থেকে ড্রেনের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় দেহ। যদিও বৃহস্পতিবার একটি ভিডিওতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন তাহির হুসেন। তবে খুনের মামলায় নাম জড়ানোয় ইতিমধ্যেই তাহিরকে আম আদমি পার্টি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।