দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার মদতে গড়ে ওঠা নয়া জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর কম্যান্ডার জ়াহরুর আহমেদ রাথার ধরা পড়ল। সাম্বা জেলায় এতদিন গা ঢাকা দিয়েছিল জ়াহরুর। গতকাল রাতে তাকে পাকড়াও করে অনন্তনাগ পুলিশের স্পেশাল টিম। গত বছর কুলগামে বিজেপির তিন যুব নেতাকে গুলি করে মারার পিছনে এই জ়াহরুরেরই হাত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়াও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর থেকে উপত্যকার একাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যার অভিযোগও রয়েছে এই লস্কর কম্যান্ডারের বিরুদ্ধে।
পুলিশের অনুমান, কুলগামের ফারাহ এলাকায় এক পুলিশ অফিসারকেও খুন করেছে জ়াহরুর। লস্করের ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ তথা টিআরএফ পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার ওপরেই। জ়াহরুরকে জেরা করার জন্য কাশ্মীরে নিয়ে আসা হয়েছে।
উপত্যকায় বিভিন্ন নামে এতদিন আত্মগোপন করেছিল জ়াহরুর আহমেদ রাথার। কখনও সাহিল আবার কখনও খালিদ নাম নিয়েছিল। গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়ে সাম্বার গোপন ডেরা থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপি যুব মোর্চার তিন নেতাকে গুলি করে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল লস্করের টিআরএফ। জ়াহরুরের নেতৃত্বে ছক কষা হয় বলেই অনুমান। কুলগ্রাম জেলার ওয়াইকে পোরা এলাকায় ওই তিন বিজেপি নেতার গাড়িতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। নিহত হন যুব মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক ফিদা হুসেন ইতু, সংগঠনের জেলা কর্মসমিতির সদস্য উমর রশিদ বেগ এবং স্থানীয় নেতা উমর রমজান হজাম। জানা যায়, হামলার সময় বিজেপির তিন যুব নেতা একটি গাড়িতে যাচ্ছিলেন। সে সময় জঙ্গিরা গাড়ি লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ে তাঁদের ঝাঁঝরা করে দেয়।
অনন্তনাগ পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পরেই টিআরএফ নামে নতুন একটি সংগঠন খোলে লস্কর গোষ্ঠী। এই সংগঠনের কাজ হল উপত্যকায় ছড়িয়ে থেকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের টার্গেট করা। গত বছর উপত্যকায় ১১ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন বিজেপির। অগস্ট মাসে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সাজাদ আহমেদকে খুন করেছিল জঙ্গিরা। জুলাইয়ে গুলি করে মারা হয় বান্দিপোরা জেলা বিজেপির সভাপতি শেখ ওয়াসিম বারি এবং তাঁর ভাই ও বাবাকে।