দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ের বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণধর্ষণ মামলার রায় বেরিয়েছে আগেই। এবার ধর্ষিতার বাবাকে খুনের ঘটনায় কুলদীপকে ১০ বছরের জেলের সাজা শোনালো দিল্লির এক আদালত। কুলদীপের ভাই অতুল সেঙ্গারকেও ১০ বছরের জেলের সাজা শোনানো হয়েছে। এছাড়াও ধর্ষিতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষা টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দু'জনকে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ধর্মেশ শর্মা বলেন, "মেয়েটি তার বাবাকে হারিয়েছে। সে বাড়ি ফিরতে পারছে না। ওই পরিবারে চারটি বাচ্চা রয়েছে। তারমধ্যে তিনজন মেয়ে।" কুলদীপ ও অতুল সেঙ্গার ছাড়া দুই পুলিশকর্মীকেও একই সাজা শুনিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা উন্নাও ধর্ষিতার বাবাকে মিথ্যে অস্ত্র আইনে ফাঁসিয়েছিলেন। এছাড়াও তথ্য প্রমাণ লুঠ করার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
গত বছর উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করেছেন পরপর। গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করতে চেয়েছেন ধর্ষিতা তরুণীকেও।
কুলদীপ সেঙ্গারকে গত ১৬ ডিসেম্বর দোষী সাব্যস্ত করেছিল দিল্লির তিস হাজারি আদালত। তার চার দিন পরে সাজা শোনান বিচারক। যাবজ্জীবনের সাজা এবং ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হয় কুলদীপ সেঙ্গারের।গত বছর ৩ অক্টোবর সিবিআই এই ধর্ষণ মামলার চার্জশিট পেশ করে। সেখানে জানা যায়, নির্যাতিতাকে ২০১৭ সালে অপহরণ করে টানা ন’দিন ধরে ধর্ষণ করা হয়।
মেয়ের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিশোরীর বাবা। তারপরেই তাঁর নামে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়। গ্রেফতারও হন তিনি। তবে তিনি অভিযোগ জানান, প্রকাশ্যেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছিল কুলদীপ সেঙ্গারের ভাই অতুল সেঙ্গার। কেউ একবারও বাধা দেয়নি অতুলকে। কিশোরীর বাবাকে বাঁচানো তো দূরের কথা। বুকে এবং পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা।
গ্রেফতারির পর জেলে যাওয়ার আগে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কিশোরীর বাবাকে। আচমকাই পেটে প্রবল যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। মারাও যান ওই ব্যক্তি। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, অন্ত্র ফুটো হয়ে গিয়েছিল রোগীর। তার জেরেই রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সারা শরীরে পাওয়া গিয়েছিল ১৪টি আঘাতের চিহ্ন। শুধু তাই নয়, উন্নাওয়ের ধর্ষণ-কাণ্ডের শুনানির ঠিক আগের দিনই রহস্যজনক ভাবে মারা গেছিলেন কিশোরীর বাবার চিকিৎসা করা চিকিৎসক প্রশান্ত উপাধ্যায়।
মার্চ মাসের চার তারিখে আদালত জানায়, ধর্ষিতার বাবার উপর হামলায় অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গার এবং তার ভাই। অভিযোগ জানিয়েছিলেন কিশোরীর বাবা নিজেই। সেই অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কুলদীপ ও অতুল সেঙ্গার। সেই মামলাতেই এদিন রায় জানাল আদালত।