দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিখ ধর্মালম্বীদের কর্তারপুরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান পাসপোর্ট ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পাঞ্জাবের পুলিশ প্রধান দিনকর গুপ্ত। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “কর্তারপুর সাংঘাতিক জায়গা। ওখানে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, কাউকে সকালে পাঠানো হলে সে বিকেলে প্রশিক্ষিত জঙ্গি হয়ে ফিরে আসতে পারে।”
ঠিক কী হয় কর্তারপুরে?
পাঞ্জাবের পুলিশ প্রধান বলেন, “যদি সেখানে ছ'ঘণ্টা থাকেন, তাহলেই আপনাকে ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। হাতে কলমে শিখিয়ে দেওয়া হবে কী ভাবে আইডি বানানো হয়।” কর্তারপুর করিডর খুলে দেওয়াকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন পাঞ্জাব পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক।
শিখ ধর্ম প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকীর তিন দিন আগে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বহু প্রতীক্ষীত কর্তারপুর করিডরের সূচনা হয়। এখান দিয়েই পাকিস্তানের নারোয়াল প্রদেশে অবস্থিত দরবার সাহিব গুরুদ্বারে যাওয়া যায়। শিখদের বিশ্বাস যে, গুরু নানক তাঁর জীবনের শেষ ১৮ বছর এই স্থানেই কাটিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় পক্ষের এই করিডোরের অংশটি উদ্বোধন করেছিলে। অন্যদিকে ইমরান খান ফিতে কেটেছিলেন পাক ভূখণ্ডের অংশটিতে।
পাঞ্জাবের ডিজিপি দিনকর গুপ্ত বলেন, “কোনও নিরাপত্তা বেষ্টনী না রেখে এই করিডর খুলে দেওয়া উদ্বেগের বিষয়। এই কারণেই এত বছর ধরে এটি খোলা হয়নি। আমি আট বছরের জন্য গোয়েন্দা ব্যুরোতে ছিলাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে এটা সুরক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।"
কর্তারপুর করিডোর নিয়ে সম্প্রতি দিল্লিতে একটি বৈঠকও হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবের পুলিশ প্রধান। শুক্রবার তিনি বলেন, “কর্তারপুর করিডরে যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে মৌলবাদ ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের কাছে ফোন থাকছে। যা উদ্বেগকে কয়েক গুণ বাড়িয়েছে।”