দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয়েছে কর্নাটকের ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের। জানা গিয়েছে, ট্রেনে যাওয়ার সময় ওই বৃদ্ধের শরীরে কোভিড ১৯ জীবাণু ঢুকেছিল। আর তারপরেই চিন্তা আরও বেড়েছে প্রশাসনের।
শুক্রবার সকালে কর্নাটকের টুমাকুরুতে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। তারপরেই জানা যায় ট্রেনে যাওয়ার সময় এই ভাইরাসের কবলে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু কী ভাবে তাঁর শরীরে এই ভাইরাস ছড়ালো তা জানা যায়নি। আর তারপরেই কর্নাটকের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে টুইট করে আবেদন করা হয়েছে, ওই বৃদ্ধের সঙ্গে যাঁরা ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন তাঁরা যেন স্বাস্থ্য দফতরে এসে যোগাযোগ করেন।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তাঁর বিদেশ যাত্রার কোনও তথ্য নেই। কিন্তু ৫ মার্চ সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসে চেপে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরেন ১১ মার্চ। ৭ মার্চ দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশনে নামেন ওই বৃদ্ধ। তারপর জামিয়া মসজিদে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ১১ মার্চ ফেরার ট্রেন ধরে বেঙ্গালুরুর যশবন্তপুরে নামেন তিনি। তারপর সেখান থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরেন তিনি।
কর্নাটকের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ১৮ মার্চ ওই বৃদ্ধের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওষুধ দিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়।
২৩ মার্চ ওই বৃদ্ধকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তিনি জোর করে বেসরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাঁকে ফের জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গতকাল তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যায়। আজ সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে যাঁরা সরাসরি ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি। আটজনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়নি। কিন্তু দিল্লিতে গিয়ে কার কার সঙ্গে তিনি দেখা করেছিলেন বা ট্রেনে যাওয়া-আসার সময় আর কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল সেটাই ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে।