দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার দুপুর দেড়টার মধ্যে আস্থাভোট করানোর জন্য কুমারস্বামী সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্ণাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা। কিন্তু রাজ্যপালের নির্দেশও মানল না সরকার। জানিয়ে দেওয়া হলো স্পিকার যা বলবেন, সেটাই মানা হবে। শুক্রবার অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মধ্যাহ্নভোজনের বিরতি পর্যন্ত বিধানসভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
এ দিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের বিজেপির বিরুদ্ধে দোষ চাপান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তিনি অভিযোগ করেন, "৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা একেকজন বিধায়ককে দিয়ে তাঁদের ভাঙিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নিজেই অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে এখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কথা আমাদের শোনাতে আসছে। আমরা স্পিকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবো।" এ দিন বাইবেলে উল্লিখিত শেষবিচারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন কুমারস্বামী। তিনি বলেন, ‘‘একটাই সান্ত্বনার যে একদিন সকলকেই ভগবানের কাছে জবাব দিতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই বিধানসভা মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার কে রমেশ কুমার।
বৃহস্পতিবার কর্ণাটকে বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে বিজেপি দাবি করেছিল, এ দিনই আস্থাভোট করতে হবে। সন্ধে নাগাদ স্পষ্ট হয়ে যায় ভোটাভুটি করাবেন না অধ্যক্ষ। তখন বিজেপির একদল প্রতিনিধি খোদ রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করেন।
রাজ্যপাল নিজে স্পিকার কেআর রমেশ কুমারকে অনুরোধ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই যেন আস্থাভোট নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হয়নি। তার বদলে রাজ্যপাল শুক্রবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। রাজ্যপাল সময়সীমা দিয়ে বলেন, শুক্রবার দুপুর দেড়টার মধ্যে আস্থা ভোট করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীকে লেখা চিঠিতে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘সংবিধানের আওতায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন জিনিস কখনও চলতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে আপনি দুপুর দেড়টার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিন।’
গত দু’সপ্তাহে শাসক জোটের মোট ১৬ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। স্পিকার এখনও সেগুলি গ্রহণ করেননি। গ্রহণ করলে সরকার নিশ্চিত ভাবেই গরিষ্ঠতা হারাতো। স্পিকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিদ্রোহীরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে, কবে ইস্তফা গ্রহণ করবেন, সে সিদ্ধান্ত স্পিকারই নেবেন। আদালত তাঁর এক্তিয়ারে নাক গলাবে না। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও বিধায়ককে বিধানসভায় হাজির হতে বলা যাবে না।
আস্থা ভোট না হওয়ায় কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতটা বিধানসভার মেঝেতেই ঘুমিয়ে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের এই সিদ্ধান্তের পর অবশ্য তাঁদের জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করে কংগ্রেসই। শুক্রবার সকালে বিধানসভাতেই মর্নিং ওয়াকও করেন তাঁরা।