দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেও আরও বেশি অশান্ত নিয়ন্ত্রণরেখা। সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙে লাগাতার গোলাগুলি চালাচ্ছে পাক বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামগুলিকে নিশানা করছে পাকিস্তানের সেনারা। সেই সঙ্গেই সীমান্তে জঙ্গিদের উৎপাত বেড়ে উঠেছে। পাক গোলাগুলি থেকে সীমান্তে সুরক্ষার জন্য তিন হাজারের বেশি বাঙ্কার বানাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সূত্রের খবর, আন্ডারগ্রাউন্ড তথা মাটির নীচে প্রায় ৮৪ শতাংশ বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ। আরও হাজার খানেক বাঙ্কার তৈরি হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।
জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সেনা সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আরও পাঁচটি গ্রামে মাটির নীচে বাঙ্কার তৈরি হচ্ছে। রাজৌরি জেলার ডেভলপমেন্ট কমিশনার রাজেশ কে শাভান বলেছেন, মোট ২ হাজার ৬৩৬টি বাঙ্কার তৈরি হয়েছে এখনও অবধি। রুরাল ডেভলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (আরডিডি) এবং পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি) এই বাঙ্কার তৈরির কাজ করছে। এই এগুলির মধ্যে ১৪৭টি কমিউনিটি বাঙ্কার, কিছু বাঙ্কারের বিশেষ পরিকাঠামো আছে, গ্রামবাসীদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে মাটির নীচে ২৫টি বাঙ্কার তৈরি করে ফেলা হয়েছে।

২০১৭ সালেই নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর বাঙ্কার তৈরির কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য অর্থও বরাদ্দ হয়। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সাত হাজারের বেশি বাঙ্কার তৈরির পরিকল্পনা আছে। যার মধ্যে অন্তত হাজারটি হবে কমিউনিটি বাঙ্কার।

সেনা সূত্র জানাচ্ছে, পাক সেনাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সীমান্তের সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানো নয়, সীমান্ত পারের গ্রামগুলিকেও নিশানায় রেখেছে পাক বাহিনী। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামগুলিতে পাক গোলাগুলির কারণে বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। প্রাণহানির ঘটনা ঘটে প্রায়দিনই। তাই সীমান্তে সুরক্ষার জন্যই বাঙ্কার তৈরির কথা ভাবা হয়। সাম্বা জেলায় ১৫৬৯টি, জম্মুতে ১১৬১টি, কাঠুয়ায় ১৫১৯টি, রাজৌরিতে ২৬০৩টি ও পুঞ্চে ৯২৫টি বাঙ্কার তৈরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। স্টিল ও সিমেন্টের তৈরি বাঙ্কার পাক গোলার থেকে সীমান্তপারের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি সেনা বাঙ্কার থেকে পাক বাহিনীর হামলার জবাবও দিতে পারবে ভারতীয় সেনারা।

নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর তিনটি ব্যাটেলিয়ন দিবারাত্র সীমান্তে নজর রেখে বসে আছে। সেনাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা পথে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উন্নতমানের ক্যামেরা ও সেন্সর বসানো হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গেই টের পেয়ে যাবেন সেনা জওয়ানরা। সেই সঙ্গেই অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করা হচ্ছে সীমান্তে। ডিআরডিও-র তৈরি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম লেজার প্রযুক্তিতে কাজ করে। আকাশপথে শত্রুসেনার ড্রোন দেখলেই লেজার রশ্মি ছুড়ে ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশপথে ২.৫ কিলোমিটার অবধি লক্ষ্য স্থির করতে পারে এই সিস্টেম। এর রেডার টেকনোলজি এতটাই উন্নত যে, শত্রুপক্ষের ড্রোন বহুদূর থেকেই চিহ্নিত করে ফেলতে পারে। এই সিস্টেম যেমন বিপক্ষের ড্রোন চিহ্নিত করতে পারে তেমনি আকাশে তিন কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে মাইক্রো-ড্রোনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতেও পারে।