
শেষ আপডেট: 23 February 2022 06:28
ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ছড়িয়ে রয়েছে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত। লাদাখের কারাকোরাম থেকে অরুণাচল প্রদেশের জাচেপ লা পর্যন্ত। এই গোটা এলাকায় নজরদারি চালায় ভারত-তিব্বত সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। জুন মাসে গালওয়ানে চিনা সেনার অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখে দিয়েছিল আইটিবিপির জওয়ানরা। এর পরেও লাগাতার চুক্তি ভেঙে লাল সেনার অনুপ্রবেশের চেষ্টা আটকে দেয় আইটিবিপির জওয়ানরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠায় কেন্দ্র। গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভারতের পার্বত্য বাহিনী তথা স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স মোতায়েন করা হয় পাহাড়ি এলাকাগুলিতে।
লাদাখের পাহাড়ি এলাকাতেও পারদ নেমেছে হিমাঙ্কের ৪০ ডিগ্রি নীচে। পাহাড়ি খাঁজ এখন আরও দুর্গম। বরফ পড়ছে। তার মাঝেই চিনের সেনাদের তৎপরতা বেড়েছে। এলএসি-র ১৭ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট থেকে পিপি-১৭এ অবধি এলাকাকে বলে হট স্প্রিং। গত বছর চিনের সেনা এই এলাকায় ঢুকে পড়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় বাহিনী সজাগ থাকায় হাতাহাতি করেই ফিরে যেতে হয় তাদের। কিন্তু এখন আবার এই হট স্প্রিং রেঞ্জেই নজর পড়েছে লাল ফৌজের। এখানেই শেষ নয়, চিনের নিশানায় আছে দেপসাং ভ্যালিও। ভৌগোলিক গুরুত্ব তো বটেই সামরিক দিক থেকেও ওই এলাকা কখনও হাতছাড়া করতে চাইবে না ভারত। ১৬ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় ৯৭২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেপসাং ভ্যালি। ২০১৩ সালে এই এলাকার ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল চিনের সেনা, ২০১৭ সালে ডোকলামে দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার সময়েও এই দেপসাং ভ্যালিই চিন্তা বাড়িয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেপসাং ভ্যালিতে আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে নীচে ডেমচক অবধি এলাকায় কর্তৃত্ব করতে পারবে লাল সেনা। একদিকে সিয়াচেন গ্লেসিয়ার, অন্যদিকে চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা আকসাই চিন—এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে দেপসাং ভ্যালি। স্ত্রশস্ত্র আনা নেওয়ার জন্য সেতু বানাচ্ছে চিনের লাল ফৌজ। তাই প্রচন্ড ঠান্ডাতেও দিনরাত সীমান্ত আগলে বসে আছেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী জওয়ানরা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'