পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি রাজনাথের, উদ্বোধন করলেন স্করপিন সাবমেরিন 'আইএনএস খান্দেরি'
দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বাড়াতে এ বার আসছে 'আইএনএস খান্দেরি'। শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মুম্বইয়ে এই স্করপিন শ্রেণীর সাবমেরিনকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেন।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতির
শেষ আপডেট: 28 September 2019 07:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বাড়াতে এ বার আসছে 'আইএনএস খান্দেরি'। শনিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মুম্বইয়ে এই স্করপিন শ্রেণীর সাবমেরিনকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেন।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "আইএনএস খান্দেরিকে নৌবাহিনীতে যুক্ত করতে পেরে আমি গর্বিত। ৭৫ প্রকল্পের আওতায় এই সাবমেরিনটি ভারতেই নির্মিত হয়েছে। এটি ফ্রান্সের সঙ্গে আমাদের বিশেষ সম্পর্কের প্রতীক, কারণ এই প্রকল্পটিতে ফ্রান্স আমাদের সহযোগিতা করেছে।" রাজনাথ আরও বলেন, "আমরা আমাদের নৌবাহিনীকে নিয়ে গর্বিত। ৭১-এর যুদ্ধে নৌবাহিনী পাকিস্তানকে পরাস্ত করতে বিশাল ভূমিকা নিয়েছিল। পাকিস্তানের উচিত আমাদের সক্ষমতা মনে রাখা এবং এই বিষয়েও সতর্ক থাকা যে প্রয়োজনে আমরা সেগুলি ব্যবহারও করতে পারি।"
এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভারতের নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং। তিনি বলেন, "খান্দেরির যোগদান ভারতীয় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে। জটিল পরিস্থিতিতেও এটি আমাদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে সক্ষম। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই অত্যাধুনিক সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্য করবে।"
অনুষ্ঠানে ছিলেন আইএনএস খান্দেরির কম্যান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন দলবীর সিং। তিনি জানান, কতটা শক্তিশালী এই স্করপিন শ্রেণীর সাবমেরিন। দলবীর বলেন, "অস্ত্র ও সেন্সরগুলির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এই নতুন সাবমেরিনটি নিজের ভূমিকা পালন করবে বলে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।" তিনি আরও জানান, "স্করপিন বিশ্বের অন্যতম উন্নত সাবমেরিন এবং ভারতবর্ষে আমরা একে কালভরি শ্রেণীর সাবমেরিন বলে থাকি। ২০১৭ সালে আমরা প্রথম স্করপিন সাবমেরিনকে আইএনএস কালভরি বলে উল্লেখ করি। খান্দেরি দ্বিতীয় স্করপিন সাবমেরিন যা থেকে আমরা টর্পেডো নিক্ষেপ করতে পারি।" ক্যাপ্টেন দলবীর সিং বলেন, "টর্পেডো, মিসাইল ও মাইনস সমস্তই আমরা এই সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করতে সক্ষম। আমাদের হেভিওয়েট অ্যান্টি শিপ এবং অ্যান্টি সাবমেরিন টর্পেডো রয়েছে, যার স্টেলথ প্রযুক্তি খুবই উন্নত এবং যন্ত্রপাতিটি যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং এটি শত্রুদের এই সাবমেরিনটি শনাক্ত করতে বাধা দেয়।"
তৈরি হওয়ার পর প্রথমবার ২০১৭ সালের ১ জুন সমুদ্রে নামানো হয় এই সাবমেরিনকে। তারপর থেকে আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপাসাগরের একাধিক জায়গায় পরীক্ষা করা হয়েছে এই সাবমেরিনকে। একাধিক টর্পেডো ও ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে এই স্করপিন শ্রেণীর সাবমেরিন থেকে। সবকিছু দেখে নিয়ে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয় এই যুদ্ধজাহাজ।