দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিনা আগ্রাসন থামাতে নয়া নীতি নিয়েছে ভারতীয় সেনা। এই নীতিতেই গত কয়েক দিনে প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণে শুরু হওয়া উত্তাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে তারা। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির উদ্দেশে ‘ট্যাকটিক্যাল সিগনালিং’ ব্যবহার করছে সেনা। ভারতীয় সেনার এই বার্তার ফলেই আর এগোতে সাহস পায়নি লাল ফৌজ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত শনিবার মধ্যরাতে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিনা সেনার এগিয়ে আসা দেখতে পায় ভারতীয় সেনা। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণে এগোচ্ছিল লাল ফৌজ। এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সেনার তরফেও বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। এই বিশেষ বার্তাকেই ‘ট্যাকটিক্যাল সিগন্যাল’ বলা হচ্ছে। এই বার্তা পেয়েই নাকি আর কাছে আসতে সাহস পায়নি পিপলস লিবারেশন আর্মি।
জানা গিয়েছে, চিনা আর্মি অতিরিক্ত সেনা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ভারতের বার্তা কাজ করে। আর সামনে এগোয়নি তারা। সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “চিন বুঝতে পেরেছিল, ভারত যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিজেদের জমি রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। তাই থেমে যায় তারা।”
গত ১৫ জুন গালওয়ানে চিনা সেনার অতর্কিতে হামলায় ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। অন্যদিকে চিনেরও অন্তত ৩৫ জওয়ান নিহত হয় বলে খবর। এই ঘটনার পরেই ভারতের তরফে জানানো হয়, এর আগে লাদাখে দুই দেশের সেনার হাতে কী অস্ত্র থাকবে তা নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু ১৫ জুন কাঁটা, তার, পেরেক লাগানো লাঠি ও লোহার রড নিয়ে আক্রমণ করেছিল চিন। অর্থাৎ চুক্তি ভেঙেছে চিন। ভারতীয় জওয়ানরা সেখানে শুধুমাত্র কথা বলতেই গিয়েছিলেন। তাই লাদাখে নিজেদের নীতি বদলায় ভারত।
কী এই নতুন নীতি
ভারতীয় সেনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিনের আগ্রাসন রুখতে ও নিজেদের জমি অক্ষত রাখতে সেনার কম্যান্ডাররা যে কোনও অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারেন। তাঁরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন। এই বিষয়ে তাঁদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া আছে।
এর আগে ১৯৯৬ সালে ভারত ও চিনের মধ্যে চুক্তি হয়। সেখানে বলা হয় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’দিকে ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনও পক্ষই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারবে না বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করতে পারবে না। তাই এই এলাকায় থাকা সেনার অনেকের হাতেই টহলদারির সময় আগ্নেয়াস্ত্র থাকত না। কিন্তু সেই নিয়ম ভাঙে চিন। তাই নীতি বদলেছে ভারতও।
এই সপ্তাহের ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে সেনার এক আধিকারিক বলেন, “আমরা চিনা সেনাকে বুঝিয়ে দিয়েছি বেশি কাছে এগোলে তাদের সমস্যা হবে। ভারতীয় সেনা তৈরি আছে। এর বেশি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা যাবে না।”
জানা গিয়েছে, প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণ দিক নিজেদের অধিকারে রাখার পরে চুশুল সেক্টরের রেকিন পাস ও স্পাঙ্গুর গ্যাপও বর্তমানে ভারতীয় সেনার অধিকারে রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর, বিশেষ করে পূর্ব লাদাখে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।
সেনার বক্তব্যে স্পষ্ট, আগের রক্ষণাত্মক নীতির বদলে আক্রমণাত্মক নীতি নিয়েছে ভারতীয় সেনা। সেই বার্তা চিনা সেনার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর তাই নিজেদের আগ্রাসন থামিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে লাল ফৌজ।