দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তে ফের সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করল পাক সেনা। শহিদ হয়েছেন এক সেনা জওয়ান। জুন মাসে এই নিয়ে চারজন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে সীমান্তে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বারবার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জেরেই এক মাসে সীমান্তে শহিদ হয়েছেন চারজন জওয়ান। মূলত পাক সেনারা গোলা বর্ষণের ফলে নিহত হয়েছেন এই সেনা জওয়ানরা।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলায় বিভিন্ন সেক্টর বরাবর মর্টার শেলিং শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। মূলত পুঞ্চ জেলার কৃষ্ণঘাঁটি এবং রাজৌরি জেলার নৌশেরা সেক্টর বরাবর শুরু হয় গোলা-বারুদ বর্ষণ। এছাড়া কাঠুয়া জেলার কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্তেও সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনাবাহিনী। যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও।
সেনার তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোররাতে সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রথম গুলির লড়াই শুরু হয় কৃষ্ণঘাঁটি সেক্টরে। এরপর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পাক সেনা মর্টার শেলিং করে নৌশেরা সেক্টরে। এই সংঘর্ষে শহিদ হয়েছেন এক নায়েব সুবেদার। ৫ জুন থেকে এই নিয়ে পাকিস্তানের সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জেরে চারজন শহিদ হয়েছেন সীমান্তে।
এর আগে জুন মাসের চার তারিখ হাবিলদার পি মাথিয়াজগন শহিদ হয়েছিলেন রাজৌরি জেলার সুন্দরবেনি সেক্টরে। গত ১০ জুন রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলার তারকুন্ডি সেক্টরে পাকিস্তানের মর্টার শেলিংয়ে শহিদ হয়েছিলেন নায়েক গুরুচরণ সিং। এরপর গত ১৪ জুন পুঞ্চ জেলায় শহিদ হন বছর ২৯-এর এক সিপাই।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত (১০ জুনের পরিসংখ্যান) সীমান্ত বরাবর ২০২৭ বার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা। গতবছর মোট ৩১৬৮ বার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ১৬২৯। অথচ এ বছর মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসেই ২ হাজারেরও বেশিবার সীমান্তে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা।
গত কয়েকদিনে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকা। কাঠুয়া জেলার কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার হয়েছিল একটি পায়রা। তার পায়ে বাঁধা আংটায় লেখা ছিল কয়েকটি সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কোনও সংকেত লেখা ছিল ওই সংখ্যাগুলির সাহায্যে। এছাড়াও তাঁদের ধারণা ছিল পাকিস্তান থেকে ট্রেনিং দিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে পাঠানো হয়েছিল পায়রাটিকে।
সম্প্রতি আবার সীমান্তে দেখা গিয়েছিল একটি ড্রোন। সেটিকে গুলি করে নামে বিএসএফ। সীমান্তে খোঁজ পাওয়া এই ড্রোন পাকিস্তান থেকেই এসেছে বলে ধারনা করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ওই ড্রোন থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। অনুমান, উপত্যকায় জঙ্গিদের অস্ত্র সরবরাহ করতে পাকিস্তান থেকে পাঠানো হয়েছিল এই ড্রোন।