দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা লকডাউনের ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি। সেই মাজা ভেঙে যাওয়া অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে গতকাল, ১ জুন থেকে আনলক- ফেস ১ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার দ্বিতীয় দিনে, মঙ্গলবার কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি তথা সিআইআইয়ের ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অনলাইন বক্তৃতায় ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হ্যাঁ আমরা ঘুরে দাঁড়াব। অর্থনৈতিক অধোগতি থেকে বৃদ্ধির পথে ফিরবে ভারত।" শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদী বলেন, "বিশ্বাস করুন, এটা কোনও দুরহ ব্যাপার নয়!"
অনলাইন বক্তৃতায় মোদী এদিন বলেন, "আপনারা ভাবতে পারেন কী করে আমি এত আত্মবিশ্বাসী হচ্ছি! কারণ আমার বিশ্বাস রয়েছে এদেশের প্রতিভা এবং উদ্ভাবনী শক্তির উপর। কঠোর পরিশ্রম, প্রত্যয়, উদ্যোগ এবং শ্রমশক্তির উপর আমার গভীর আস্থা রয়েছে।"
অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে গিয়ে গত মাসে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, "করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। থেমে গেলে চলবে না।" এদিনও প্রধানমন্ত্রী সতর্কতা মেনে, সাবধানতা বজায় রেখেই বৃদ্ধির পথে এগোনোর কথা বলেন। তাঁর কথায়, "একদিকে আমাদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। একইসঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক কাজকর্মও চালিয়ে যেতে হবে।"
করোনা সংক্রমণের গতি শ্লথ হয়েছে বলে এদিনের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী এদিন বলেন, এবার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে। যা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলাই যে সরকারের লক্ষ্য এদিন আরও একবার তা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, "পাঁচ 'আই'কে মহামন্ত্র করে নিতে হবে। পাঁচ আই কী? তাঁর কথায়, ইনটেন্ট (অভিপ্রায়), ইনক্লুশন (অন্তর্ভুক্তি), ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ), ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পরিকাঠামো) এবং ইনোভেশন (উদ্ভাবন)।
জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় দেশীয় পণ্য উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিলেন মোদী। বলেছিলেন, "স্থানীয় পণ্যের জন্য গর্ব করুন। লোকালের জন্য ভোকাল হলে তবেই সেটা একদিন গ্লোবাল হয়ে উঠবে।" এদিনও 'মেড ইন ইন্ডিয়া, মেড ফর ওয়ার্ল্ড'-এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকালই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ফুটপাথের দোকানদারদের জন্য একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উৎপাদন এবং বাজারের যে চক্র বা সার্কল রয়েছে তাকে মসৃণ করা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভেঙে পড়া অর্থনীতির শিরদাঁড়া সোজা করতে যে কোনও রাষ্ট্রপ্রধান উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দেবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য, লকডাউনের ফলে যে পরিমাণ মানুষ কাজ হারিয়েছেন বা হারাচ্ছেন তা মোটেই অর্থনীতির পক্ষে শুভ নয়। মানুষের হাতে যদি কাজ না থাকে, অর্থের জোগান না থাকে তাহলে বাজারে চাহিদাও থাকবে না। তখনই ধাক্কা খাবে উৎপাদন। তাঁদের মতে, বৃদ্ধির পথে হয়তো ফিরবে ভারত, কিন্তু কবে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।