দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নেওয়া করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন বানানোর চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশ। সেই চেষ্টায় রয়েছে ভারতে। এবার কুষ্ঠরোগের ওষুধ দিয়ে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে ভারতে, এমনটাই হানালেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর শেখর মান্ডে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর। তিনি বলেন, “ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার অনুমতি পাওয়ার পরেই আমরা এই ভ্যাকসিন টেস্ট করা শুরু করেছি। এই এমডাবলু ভ্যাকসিন কুষ্ঠরোগীদের সারাতে খুব কার্যকর। এই ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এখন এই ভ্যাকসিন কোভিড ১৯ মোকাবিলা করতে সক্ষম কিনা সেটাই পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
ডক্টর শেখর মান্ডে বলেন, “একটা ভ্যাকসিন তৈরি করা অনেক দিনের প্রক্রিয়া। পরীক্ষা চলছে। আমরা এমন একটা ভ্যাকসিন বানানোর চেষ্টা করছি যা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। আমাদের আরও দুটি অনুমতির প্রয়োজন। সেটা হয়ে গেলেই আমরা ট্রায়াল করা শুরু করব। আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এর ফল আমরা দেখতে পাব।”
আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর বলেন, ভারত এখন কোভিড ১৯ ভাইরাসের জিনগত পর্যায়ক্রম বোঝার চেষ্টা করছে। এটা বোঝা গেলেই স্পষ্ট হবে যে এই ভাইরাস নিজেদের বিবর্তন করতে পারে কিনা। ভ্যাকসিন অনুযায়ী এই ভাইরাস নিজেদের গঠন পরিবর্তন করতে পারে কিনা সেটাই বোঝা যাবে। ডক্টর শেখর বলেন, “পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি ইতিমধ্যেই ২৫টি পর্যায়ক্রম করেছে। আমাদের আরও দুটি ল্যাবরেটরিতে ৩০ টি পর্যায়ক্রম করা হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে আমরা ৫০০ থেকে ১০০০ পর্যায়ক্রম পরীক্ষা করে দেখব।”
পৃথিবীতে এই নোভেল করোনাভাইরাসের ছ-সাত ধরনের প্রজাতি রয়েছে বলেও জানিয়েছে ডক্টর শেখর মান্ডে। ভারতে কতগুলি প্রজাতি রয়েছে তা এত তাড়াতাড়ি বোঝা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। জিনগত প্রর্যায়ক্রম করলে তবেই তা বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুধু ভারত নয়, আমেরিকা, চিনের মতো দেশও করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন তৈরি করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কোভিড ১৯-এর নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন তৈরি করতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। তার বেশিও লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হু।