দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ইতিমধ্যেই ব্রিটেন ফেরত ছয় যাত্রীর শরীরে পাওয়া গিয়েছে ব্রিটেনের করোনা স্ট্রেন। আর তারপরেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। ৯ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪ দিনের মধ্যে যেসব যাত্রী বিদেশ থেকে ভারতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে যাঁদের শরীরে উপসর্গ রয়েছে এবং যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মিউট্যান্ট করোনা টেস্ট হবে। অর্থাৎ তাঁদের নমুনার জেনম সিকুয়েন্সিং করে দেখা হবে। তারপরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলবে কেন্দ্র।
ভারতে ব্রিটেনের স্ট্রেন পাওয়ার পরেই এই পরীক্ষার ব্যবধান ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আপাতত ২১ ডিসেম্বর থেকে ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। বিশ্বের অনেক দেশই ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। কিন্তু তার মধ্যেই ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইডেন, ফ্রান্স, স্পেন, সুইৎজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, জাপান, লেবানন ও সিঙ্গাপুরে ছড়িয়ে পড়েছে এই নতুন স্ট্রেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে নীতি আয়োগের সদস্য ডক্টর ভি কে পাল বলেন, “শুরুতেই এই ভাইরাসকে দমন করা অনেক সহজ। যদি এই ভাইরাস অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে আটকানো কঠিন হবে।”
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই নতুন স্ট্রেনের মারণ ক্ষমতা বেশি কিনা বা ভ্যাকসিন দিয়ে তাকে আটকানো যাবে না, এরকম কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই স্ট্রেনের সংক্রমণ ক্ষমতা ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে অনেক দ্রুত ছড়াতে পারে এই নতুন স্ট্রেন। সেটাই চিন্তার উদ্রেক ঘটাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। যেসব নমুনা নেওয়া হয়েছে সেগুলি বর্তমানে ইনসাকগ (ভারতে বিভিন্ন প্রজাতির করোনাভাইরাসের জেনম সিকুয়েন্সিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই ল্যাবরেটরি)-এ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। দেশে ১০টি ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা হয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
যে যে কেন্দ্রে এই জেনম সিকুয়েন্সিংয়ের পরীক্ষা হয় সেগুলি হল এনআইবিএমজি কলকাতা, আইএলএস ভুবনেশ্বর, এনআইভি পুণে, সিসিএস পুণে, সিসিএমবি হায়দরাবাদ, সিডিএফডি হায়দরাবাদ, আইএনএসটিইএম বেঙ্গালুরু, এনআইএমএইচএএনএস বেঙ্গালুরু, আইজিআইবি দিল্লি ও এনসিডিসি দিল্লি।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের ৫ শতাংশ রোগীর নমুনা নিয়েও জেনম সিকুয়েন্সিং করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। তাহলে নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকবে না বলেই জানিয়েছে তারা। তবে এই নমুনার মধ্যে বেশিরভাগটাই নেওয়া হবে মেট্রো শহরগুলি থেকে। কারণ এই শহরগুলিতে জনসংখ্যা ও ঘনত্ব বেশি এবং বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বেশিরভাগই মেট্রো শহরে বাস করেন। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।