দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আতঙ্কে কাঁপছে ভারত। এই মুহূর্তে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪। দিন দিন বাড়ছে এই সংখ্যা। মারা গিয়েছে ২ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে আশার কথা। ইতিমধ্যেই ভারতে ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ লড়াই করে তাঁরা জয় করেছেন করোনা।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে। তাদের মধ্যে পাঁচজন উত্তরপ্রদেশের, একজন রাজস্থান ও একজন দিল্লির বাসিন্দা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক কর্তা জানিয়েছেন, "প্রথমে যখন কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু প্রবেশ করে তখন তাকে আইসোলেশন করে রাখা হয়। তারপর পর্যবেক্ষণে রাখার পর ১৪ দিনের মাথায় আর একবার পরীক্ষা করে দেখা হয়। তখন যদি তার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু আর না পাওয়া যায়, তখন পরের দিন ফের একবার তার শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হয়। দ্বিতীয় দিনেও যদি তার শরীরে করোনার জীবাণু না পাওয়া যায় তাহলে তাকে করোনা মুক্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। তারপর তাকে ছাড়া হয়।"
এক্ষেত্রে যে ১০ জনকে ছাড়া হয়েছে তাদের শরীরেও এভাবে পরবর্তীকালে আর জীবাণু পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ৭ জন ছাড়া আর যে ৩ জনকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই কেরলের বাসিন্দা। এই ১০ জনের শরীরে নতুন করে আর করোনা ভাইরাস বাসা বাঁধেনি বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ভারতে প্রায় সাত হাজার জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের শরীরে এই জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নোবেল করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৮০ শতাংশ মানুষ কোনওরকম বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মানুষের শরীরে সংক্রমণের ফলে তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের একাংশের খুবই শরীর খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, হার্টের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তির খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হতে পারে, শ্বাস প্রশ্বাসের সময় বুকে ব্যথা হতে পারে বা শ্বাসযন্ত্রে আরও জটিল সমস্যা হতে পারে। তাঁদের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে বেশিদিন সময় লাগতে পারে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
শরীর খুবই অসুস্থ হলে তবেই মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। তাও হয় মূলত সেকেন্ডারি কোনও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য। বর্তমানে যত মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের মধ্যে মৃত্যুর হার কিন্তু খুবই কম। মাত্র ১.৪ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ।
ভারতে এখনও পর্যন্ত যে দু'জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টের মতো সময়া ছিল বলেই জানা গিয়েছে। তাছাড়া দু'জনেরই বয়স অনেকটাই বেশি ছিল। সে কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনাকে হারিয়ে ফিরে আসা যে সম্ভব তা জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।